
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সরাসরি নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের "উপদেশ দেওয়া বা প্রশ্ন করার কোনও অধিকার নেই"। দিলীপ ঘোষের মতে, নির্বাচন কমিশনের ওপর সারা দেশের আস্থা রয়েছে এবং তাদের অধীনে স্বচ্ছ নির্বাচন হলে রাজ্যে সরকার বদল নিশ্চিত।
খড়গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উপদেশ দেওয়া বা প্রশ্ন করার কোনও অধিকার নেই। উনি ১৫ বছর কেমন সরকার চালিয়েছেন, এখানকার অফিসারদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছেন, তা সবাই জানে... গোটা দেশ এই নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাস করে। বিহারেও তারা সফলভাবে নির্বাচন করিয়েছে, এখানেও সফল নির্বাচন হবে এবং পরিবর্তন আসবে।"
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠির জবাবেই দিলীপ ঘোষ এই মন্তব্য করেন। চিঠিতে মমতা অভিযোগ করেন যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন "শালীনতা ও সাংবিধানিকতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে"।
চিঠিতে মমতা "স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন" শুরুর সময় থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কমিশন বাস্তব পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের ভালো-মন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে বারবার কমিশনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, "ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমার মতে, তারা শালীনতা ও সাংবিধানিকতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে... আমি বারবার এই উদ্বেগ কমিশনের নজরে এনেছি, কিন্তু কোনও ফল হয়নি। মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য আমাকে সুপ্রিম কোর্টে যেতেও বাধ্য হতে হয়েছিল। আদালত আমাদের উদ্বেগ ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা স্বীকার করে কিছু নির্দেশ দেয়, যা এখন কার্যকর করা হচ্ছে।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই কমিশন কোনও উপযুক্ত কারণ বা আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ছাড়াই রাজ্যের বরিষ্ঠ আধিকারিকদের হঠাৎ করে বদলি করে দিয়েছে। তাঁর মতে, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, জেলাশাসক এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের এই অপসারণ ও বদলির ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় এই আধিকারিকরা কমিশনের অধীনে ডেপুটেশনে থাকেন।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন দুটি দফায় অনুষ্ঠিত হবে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। এর জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারি হবে ৩০ মার্চ, ২০২৬। এই দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল, মনোনয়ন পরীক্ষা হবে ৭ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল।
দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। এর জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারি হবে ২ এপ্রিল, ২০২৬। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল, মনোনয়ন পরীক্ষা হবে ১০ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ এপ্রিল। এই দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.