Durga Puja 2026: এই বছরের দুর্গাপূজা শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অধীনে এক নতুন রূপ পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের বিশ্বজনীন উৎসবের পরিবর্তে, নতুন নিয়মে সনাতনী শাস্ত্রীয় অনুশাসন, অনুদান পুনর্বিন্যাস, এবং সামাজিক সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Durga Puja 2026: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের শারদোৎসব এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুর্গাপূজা যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন নিয়মাবলীর জেরে তাতে এসেছে এক আমূল রূপান্তর।
212
সনাতনী শাস্ত্রীয় অনুশাসন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
একদিকে ছিল উৎসবকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার ও উৎসবের দিন বাড়ানোর কৌশল, আর অন্যদিকে যুক্ত হলো সনাতনী শাস্ত্রীয় অনুশাসন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি। দুই আমলের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের বিস্তারিত ফারাক ১. সনাতনী রীতিনীতি বনাম উৎসবের দীর্ঘায়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা-
312
তৃণমূল জমানার দুর্গাপূজা
তৃণমূল জমানার দুর্গাপূজার মূল উদ্দেশ্যই ছিল উৎসবের দিনকে যতটা সম্ভব বাড়িয়ে দেওয়া। মহালয়া আসার আগেই, পিতৃপক্ষ চলাকালীনই বহু বড় মণ্ডপের উদ্বোধন হয়ে যেত। সমালোচকদের মতে এটি শাস্ত্রীয় নিয়মের পরিপন্থী হলেও, সাধারণ মানুষের মণ্ডপ দর্শনের সময় বাড়াতে এটি দারুণ কাজ করেছিল।
412
শুভেন্দু অধিকারীর জমানা
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই পূজা উদ্বোধনের ক্ষেত্রে "সনাতন ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় নিয়ম" ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেবীপক্ষের সূচনা (মহালয়া) না হলে কোনও মণ্ডপ সাধারণের জন্য খোলা যাবে না।
512
পূজা অনুদান ও অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা
২০১৮ সালে ২৮ হাজার পূজা কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু হয়, যা ২০২৫ সাল নাগাদ বেড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি কমিটির জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে ছোট-বড় সব পূজাই সমান সরকারি সাহায্য পেত।
612
শুভেন্দু অধিকারীর জমানা
বিজেপি সরকার এই খয়রাতি প্রথায় রাশ টেনে অনুদানের অঙ্ক কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা করেছে। সবচেয়ে বড় বদল হলো—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বড় এবং কর্পোরেট স্পন্সর পাওয়া পূজা কমিটিগুলোকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, যাতে সেই টাকা সত্যিই পিছিয়ে পড়া ও ছোট পূজা কমিটিগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়।
ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর কলকাতার রেড রোডের 'দুর্গাপূজা কার্নিভাল' ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রোজেক্ট। যেখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে বাংলার সেরা প্রতিমা ও থিমগুলোকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিদায় জানানো হতো।
812
শুভেন্দু অধিকারীর জমানা
এই কার্নিভালকে অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে ২০২৬ সালে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উৎসবের জাঁকজমককে এবার বিসর্জন থেকে সরিয়ে এনে আবাহনে যুক্ত করা হয়েছে—মহালয়ার দিন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে ড্রোন প্রদর্শনী এবং লাইট-সাউন্ড শো-এর মাধ্যমে সরকারিভাবে উৎসবের সূচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
912
সামাজিক সংযম ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা
উৎসবের দিনগুলোতে আইন-শৃঙ্খলার দিকে নজর থাকলেও রাতভর লাউডস্পিকার ও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ডিজে বাজনোর চল ছিল। মদের দোকানগুলোও গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকত উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে।
1012
শুভেন্দু অধিকারীর জমানা
বর্তমান সরকার সামাজিক শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর। অঞ্জলি ও উৎসবের মূল দিন অর্থাৎ মহাঅষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণ মদ বিক্রি নিষিদ্ধ (Dry Day) করা হয়েছে, যা বাংলায় এই প্রথম। একই সাথে মণ্ডপে ও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় তারস্বরে ডিজে (DJ) বাজানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও রোগীদের ভোগান্তি না হয়।
1112
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার দুর্গাপূজা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার দুর্গাপূজা পেয়েছিল একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বজনীন থিম-কার্নিভালের রূপ—যেখানে ধর্মীয় আচারের চেয়ে উৎসবের আনন্দই ছিল মুখ্য।
1212
বিশুদ্ধ সনাতনী শিকড়ে দুর্গাপূজা
অপরদিকে, ২০২৬ সালে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন দুর্গাপূজাকে তার বিশুদ্ধ সনাতনী শিকড়ে, শাস্ত্রীয় গাম্ভীর্যে এবং কঠোর শব্দ ও সামাজিক অনুশাসনে বেঁধে ফেলতে চাইছে। এই দুই ভিন্ন মেরুর প্রশাসনিক নীতির কারণে বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসবের রূপ ও রঙে যে এক বিশাল ঐতিহাসিক বদল ঘটে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.