
বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই কাঁচা সবজির দাম চড়া। তার উপর এবার এক ধাক্কায় বেড়ে গিয়েছে মুদি দোকানের মাসকাবারি খরচও। চিনি থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল, ডাল, আটা-ময়দা—নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব সামগ্রীর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের হেঁশেলে টান পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ভোজ্য তেলের দাম। এক মাসেই খোলা সর্ষের তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। তবে প্যাকেটজাত সর্ষের তেল ও সাদা ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি। ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধের জেরে আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়াতেই সাদা তেলের দাম এতটা চড়েছে। পোস্তা বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কেডিয়াও জানিয়েছেন, ভোজ্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডালের দামও। গত এক মাসে ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ভাত-ডাল-তরকারির মতো সাধারণ মধ্যবিত্তের রোজকার পাতেও এখন টান পড়ার জোগাড়।
আটা-ময়দার দামও নিস্তার দেয়নি। গত এক মাসে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত আটার দাম আরও অনেকটাই বাড়তে পারে।
এই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্রমবর্ধমান দামের প্রভাব পড়েছে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতেও। তুলনায় খোলাবাজারে চালের দাম এখনও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে ভোজ্য তেল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত দামবৃদ্ধিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, আর কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা ওয়াকিবহাল মহলের।
সবচেয়ে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে চিনির দাম। গত মাসেও খুচরো বাজারে যে চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৫২-৫৩ টাকা কেজিতে, তা এখন পৌঁছে গিয়েছে ৬৫-৭০ টাকায়। পাইকারি বাজারেই দাম উঠেছে ৬০-৬২ টাকা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকার বিশেষ পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়বে। পোস্তা বাজার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কেডিয়ার কথায়, চিনি ও ভোজ্য তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.