
Hooghly News: নবমীর রাতে বাবার কাছে ঘুগনি রুটি খাওয়ার আবদার, ঘর থেকে মা ও ছেলের দেহ উদ্ধার পান্ডুয়ায়। নবমীর রাতে বাবার কাছে ঘুগনি-রুটি খাওয়ার আবদার করেছিল ১২ বছরের ছেলে। বাবাও ছেলের আবদার মেনে খাবার কিনে দিয়েছিলেন। মা ও ছেলে রাতে একসঙ্গে সেই খাবার খান। তারপর রাতেই বাড়ি থেকে উদ্ধার মা ও ছেলের মৃতদেহ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত বৈঁচিগ্রাম পঞ্চায়েতের চৌবাড়া এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম ডলি মুর্মু (৩১)। তাঁর ছেলে রঞ্জিত মুর্মু (১২)। পরিবারের সদস্যরা জানায়, রনিত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল।রনিতের বাবা সোম্বা মুর্মু দিন মজুরের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে ছেলে ঘুগনি-রুটি খেতে চাওয়ায় তিনি খাবার কিনে বাড়িতে দেন। এরপর বাড়ির কাছেই একটি ক্লাবে আড্ডা দিতে চলে যান। মা ও ছেলে একসঙ্গে রাতে খাবার খান।
রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ বাড়ি ফিরে সোম্বা স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে সারা শব্দ না পেয়ে তার দাদা ও বৌদিকে ডাকেন। খবর দেয়া হয় পুলিশকে। এরপরই ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পাশের বিছানায় পড়েছিল ছেলের দেহ। মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, চোরবাগান কাণ্ডে মৃতের পরিবারের পাশে শুভেন্দু অধিকারী! বৈদ্যবাটীর শ্রীপর্ণা পোদ্দারের বাবা-মাকে সমবেদনা, ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রিয়জন হারানো পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হুগলির বৈদ্যবাটীতে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁর কনভয় বৈদ্যবাটীতে প্রবেশ করে। সেখানে তিনি মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পরিবারের হাতে তুলে দেন ২৫ লক্ষ টাকার চেক।
উৎসবের আনন্দের মাঝে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারকে আশ্বস্ত করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বৈদ্যবাটীতে ছিল কড়া প্রশাসনিক নিরাপত্তা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব, মন্ত্রী সুমনা সরকার, মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, বিধায়ক দিলীপ সিংহ-সহ একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন প্রশাসনের কর্তারা।
প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা যে কোনও আর্থিক সাহায্যেই পূরণ হওয়ার নয়, তা সত্ত্বেও বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে তাঁদের ভরসা জোগানোর চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে — কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, আর তদন্তে উঠে আসে কোন তথ্য, সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.