অভিষেকের অফিসে হোর্ডিং-বিতর্ক গড়াল থানা পর্যন্ত, কী কী শাস্তির মুখে TMC নেতা?

Published : Aug 28, 2026, 11:09 AM IST
camac street complaint against  abhishek banerjee  what punishment

সংক্ষিপ্ত

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বেআইনি হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-পুরসভার সঙ্গে ধস্তাধস্তি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা। দোষী প্রমাণিত হলে কী কী শাস্তি হতে পারে, বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে বেআইনি হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের। কাজে বাধাদানের অভিযোগে অভিষেক ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তাতে রীতিমত বিপাকে পড়তে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা পুলিশের অভিযোগে শাস্তির খাঁড়া অভিষেকের মাথায়

কলকাতা পুলিশের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলিতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে একাধিক ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সরকারি কর্মচারীকে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা, কিংবা উভয় শাস্তিই হতে পারে। অনুমতি ছাড়া বিপুল জমায়েত করার অভিযোগে হতে পারে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা। পুলিশ ও পুরকর্মীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও হতে পারে। এক মহিলা পুলিশকর্মীকে লাঞ্ছনার অভিযোগে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির সংস্থান রয়েছে—তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া সরকারি আধিকারিকদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সর্বোচ্চ দু’বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ক্যামাকস্ট্রিটে তৃণমূলের বিলবোর্ড নিয়ে ঝামেলা

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। ক্যামাক স্ট্রিটের যে বহুতলের সাত তলায় অভিষেকের অফিস, সেখানে তৃণমূলের একটি বড় বিলবোর্ড লাগানো ছিল। সেটি অবৈধ বলে অভিযোগ ওঠায় কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা পুলিশ সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছোন। অফিসে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি বাধে। অভিযোগ, অভিষেকের অফিসে ঢুকতে গেলে পুলিশকে কলার ধরে মারধর করা হয়, বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী সিঁড়িতে পড়ে যান। পুরকর্মীদেরও বারবার কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। অভিষেক-বাহিনীর প্রতিরোধ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ‘বেআইনি’ বিলবোর্ডটি খোলা হয়, কিন্তু পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ জায়গা ছাড়তেই তৃণমূলের নাম-প্রতীক সংবলিত আরেকটি ব্যানার সেখানে ফের টাঙানো হয়।

অভিষেকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

এই অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সুদীপকুমার বসু অভিষেক, ডেরেক ও'ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বেআইনি জনসমাবেশ, পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভয় দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্ট সুজিতকুমার মণ্ডলও পুলিশের কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

৩টি মামলা, গ্রেফতার ১৩

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে এবং ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযোগগুলি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হলে তবেই উপরোক্ত শাস্তি বা জরিমানা কার্যকর হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Derek O'Brien: অভিষেকের অফিসের সাইনবোর্ড সরানো নিয়ে ধুন্ধুমার, সিঁড়ি থেকে পড়ে গেলেন ডেরেক
ক্যামাকস্ট্রিটে বিলবোর্ড খুলতে যাওয়া পুলিস-পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বতি অভিষেকের, দেখুন ভিডিও