কলকাতা পুরসভা এলাকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে পেনশনপ্রাপকদের জন্য সুখবর দিল রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের পেনশন শাখা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বহু বছর ধরে আটকে থাকা বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (DR)-এর একটি বড় অংশ দ্রুত মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
210
কারা এই সুবিধা পাবেন?
কলকাতা পুরসভা এলাকার রাষ্ট্রায়ত্ত ও অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এবং ফ্যামিলি পেনশনভোগীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
310
কেন বকেয়া আটকে ছিল?
ব্যাঙ্কগুলির কাছে অতীতের পেনশন সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য না থাকায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল (রোপা ২০০৯ মেয়াদ) পর্যন্ত বকেয়া ডিআর দীর্ঘদিন আটকে ছিল।
ব্যাঙ্কের তথ্য সম্পূর্ণ যাচাই হওয়ার আগেই আনুমানিক মোট বকেয়া ডিআর-এর ৫০ শতাংশ অর্থ সরাসরি পেনশনারদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, যাতে অবিলম্বে আর্থিক স্বস্তি মেলে।
510
হিসাব করা হবে কীভাবে?
অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি)-এর দেওয়া তথ্য এবং অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই)-এর ভিত্তিতে আনুমানিক বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
610
কীভাবে টাকা পাওয়া যাবে?
রাজ্য সরকার WBIFMS-এর অধীনে একটি ডেডিকেটেড ‘ব্যাঙ্ক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল’ চালু করেছে। ব্যাঙ্কগুলিকে এই পোর্টালে গিয়ে পেনশনারদের তথ্য যাচাই ও আপডেট করতে বলা হয়েছে, যার ভিত্তিতে টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে
710
বাকি ৫০% কবে মিলবে?
অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বকেয়া মেটানোর কাজও শীঘ্রই শুরু হবে। এর জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ২০০৮-২০১৯ সালের পুরনো পেনশন নথি দ্রুত যাচাই করে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকার নিয়ম নিয়ে পরে পৃথক বিজ্ঞপ্তি আসবে।
810
কারা এই সুবিধার বাইরে?
শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকার ব্যাঙ্ক-পেনশনভোগীদের কথাই এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের প্রশ্ন, এলাকার বাইরের ও গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের বিষয়ে সরকার নীরব কেন।
910
বৈষম্যের অভিযোগ কোথায়?
সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল জানান, ট্রেজ়ারি থেকে পেনশনপ্রাপকরা ২০১৬-২০১৯ সালের পুরো টাকা পেলেও, কলকাতা পুরসভা এলাকার পেনশনাররা মাত্র ৫০ শতাংশ পাচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
1010
এক নজরে মূল তথ্য
কলকাতা পুরসভা এলাকার ব্যাঙ্ক-পেনশনভোগীরা এখনই বকেয়া ডিআর-এর ৫০ শতাংশ পাবেন, বাকি অংশ যাচাই-প্রক্রিয়া শেষে মিলবে। তবে এলাকার বাইরের ও গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের নিয়ে অস্পষ্টতা এবং বৈষম্যের অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে।