
Kudghat Shocker: খাস কলকাতার বুকে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আধার কার্ড তৈরির নাম করে কুদঘাটের এক তরুণীকে উত্যক্ত করা, অশ্লীল কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল। কুপ্রস্তাবের পাশাপাশি, ধর্ষণের হুমকি, এমনকী রাত ১১টায় হোটেলে যেতে রাজি না হওয়ায় আরজি কর ঘটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হল বলে অভিযোগ। কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা। কলকাতা পুরসভার ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কুদঘাটের এই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। ঠিক কী হয়েছিল? এক তরুণী তার মায়ের আধার কার্ড না থাকায় তৃণমূল নেতাদের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁকে সাদেক ইসলাম এর নাম বলে সেখানকার কয়েকজন। তরুণীকে বলা হয়, "সাদেক আমাদের পার্টির লোক। উনি তোমায় সাহায্য করে দেবেন।" অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থার কর্মী এক মহিলার আধার কার্ড তৈরির নাম করে বেশ কয়েক মাস ধরে উত্য়ক্ত করেন ওই ব্য়ক্তি। মহিলার অভিযোগ, জানুয়ারি মাসে রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও অধরা অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত ওই মহিলা। যুবতীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি তৃণমূল কর্মী হওয়ায় প্রথমে পুলিস অভিযোগ নিতে চায়নি। তরুণী জানান, রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি। তবে পরে অভিযোগ নিলেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিস। কুদঘাট কাণ্ডে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে।
যদিও অভিযোগের আঙুল ওঠা সাদেক ইসলাম নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তরুণীর অভিযোগ, সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেটা না শোনায়, বলা হয় 'আরজি কর' ঘটিয়ে দেব। ধর্ষণের ভয় দেখানো হয়। কখনও রাত ১১ টায়, কখনও আরও রাতে তাকে ডাকা হয় বলে অভিযোগ। বাড়িতে এসেও শাসানি দেয়। এমনকি বিয়েও করতে চায় তাঁকে।
সহ্য করতে না পেরে সেই মহিলা আইনজীবীকে নিয়ে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এত বিস্ফোরক অভিযোগ জানানোর একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা সাদেক ইসলাম। তরুীর অভিযোগ, তাঁকে এবং তাঁর মা-কে রীতিমতো ভয় দেখানো হচ্ছে। বাড়ির সামনে এসে হুমকিও চলছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিক,দোষীরা শাস্তি পাক চাইছেন সেই তরুণী। অভিযোগকারিণীর আরও অভিযোগ, যুবতী কোনও প্রকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সাদেক, বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে যুবতীকে অশালীন ছবি পাঠানো হয়েছিল, কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। অভিযোগ থানা থেকে বলো হয় ও পার্টির লোক, তৃণমূলের লোক, অভিযোগ তুলে নিন। থানায় অভিযোগ করার পর অত্যাচার আরও বাড়ে। বাড়ি এসে ধর্ষণ করে দেবে, আরেকটা আরজি কর ঘটে যাবে বলে বারবার ভয় দেখায়। অগাস্ট মাস থেকে একটানা উত্যক্ত করছে। এখনও প্রতিনিয়ত ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ।