
নির্মলা সীতারমণের পথ ধরেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাদুরকাটি আর জুটের ফাইল নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বাংলার মানুষের ইচ্ছে পুরণের চেষ্টা করবেন তিনি। তবে সবই নতুনের সঙ্গে পুরাতন মেলবন্ধন থাকবে বাজেটে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বপন দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে পুজো করেন। শঙ্খ -ঘণ্টা বাজিয়ে আরতিও করেন অর্থমন্ত্রী। তারপরেই মিষ্টিমুখ করান। বাঙালিদের কাছে শুভ বলে মনে করা হয় মিষ্টি দই। সূত্রের খবর তাই শুভেন্দু খাইয়ে দেন স্বপন দাশগুপ্তকে। তারপরই পেশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের বাজেট। তেমনই দাবি বিজেপির একটা অংশের।
বিধানসভা সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষেই বঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে। বাজেট ঘিরে সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে প্রত্যাশা বাড়তে শুরু করেছে। বাজেটে কেউ আশাহত হবেন না বলেও জানিয়েছেন, রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আগেই শুভেন্দু অধিকারী ও স্বপন দাশগুপ্ত বলেছিলেন তাঁরা রাজ্যের মানুষের কথা ভেবেই বাজেট পেশ করা হবে। বাজেটে ডিও, শিল্পায়ন, নিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ একাধিক বিষয়ে রোডম্যাপ থাকতে পারে। রাজ্যে শিল্প আনার ক্ষেত্রেও বড় দিশা থাকতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবাল মহল। পাশাপাশি স্বপন দাশগুপ্ত আগেই বলেছিলেন, তাঁদের সরকার শিল্প বিরোধী নয়। তাই শিল্পক্ষেত্রে বড় দিশা থাকতে পারে
বাজেট পেশের ঠিক আগে তাঁর হাতে দেখা গেল এক অনন্য ফাইল — পাট ও মাদুরকাঠি দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি। এই ফাইলেই সযত্নে রাখা রয়েছে বাজেটের সমস্ত নথি, আর সেখান থেকেই বাজেট বক্তৃতা পাঠ করবেন তিনি। চট ও মাদুরকাঠির অপূর্ব নকশায় তৈরি এই ফাইলটি শুধু একটি নথিবাহক নয়, এটি যেন বাংলার শিকড়ের কথা বলে। ফাইলের উপরে মাদুরকাঠি দিয়ে তৈরি সুনিপুণ অর্ধচন্দ্রাকৃতি নকশা, আর ডান পাশে সগর্বে রয়েছে অশোক স্তম্ভের প্রতীক। রাজ্যের দুই প্রান্তিক শিল্পের এই অনবদ্য সমন্বয় বাংলার ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও আত্মনির্ভরতার বার্তাই তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন অনেকে।