
পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে বড়সড় সম্প্রসারণের পথে হাঁটল কেন্দ্র। রবিবার কলকাতার জিআরএসই ভবনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের (YIL) পাঁচটি ব্রাউনফিল্ড প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পের অধীনে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশের নৌবাহিনী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্রের পরিকাঠামো আরও মজবুত করা।
এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সচিব সঞ্জীব কুমার, অর্ডন্যান্সের ডিরেক্টর জেনারেল (সিঅ্যান্ডএস) জেপি দাশ, জিআরএসই-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমোডর পিআর হরি এবং ওয়াইআইএল-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিজয়কুমার আইয়ার। কিডডারপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরের বিভিন্ন প্রকল্পস্থলে একই সঙ্গে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায়, নবরত্ন ডিফেন্স পিএসইউ জিআরএসই হুগলি নদীর ধারে তিনটি জায়গা ব্যবহারের জন্য শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি পোর্ট, কলকাতার (SMPK) সঙ্গে লিজ চুক্তি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হল রায়চকের ৩২ একরের একটি riverside facility, যেখানে ২৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে একটি বড় জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এখানে ৩৫৬-মিটার ওয়াটারফ্রন্ট, ৯৬-মিটার জেটি এবং ৮ থেকে ১০-মিটার ড্রাফট থাকবে। এছাড়াও একটি ২০০-মিটার ড্রাই ডক, স্লিপওয়ে এবং ব্লক ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট তৈরি হবে, যেখানে ২০০ মিটার পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজ এবং ৬০,০০০ DWT পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করা সম্ভব হবে।
পাশাপাশি, জিআরএসই প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শালিমারে ৪ একরের টিম্বার পন্ড ফ্যাসিলিটি নতুন করে সাজিয়ে তুলবে। এখানে মাঝারি আকারের জাহাজ তৈরি ও মেরামতির কাজ হবে। এখানকার ১৩০-মিটার ড্রাই ডকটি সারিয়ে একটি ১২০-মিটার স্লিপওয়ে তৈরি করা হবে। এছাড়া, কিডডারপুর ডকে দামোদর ফ্যাসিলিটিতে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখানকার ২৫-মিটার ওয়াটারফ্রন্ট ব্যবহার করে মাঝারি আকারের জাহাজ মেরামত, বৈদ্যুতিক ফেরি এবং ছোট জলযান তৈরি করা হবে।
অন্যদিকে, ইছাপুরে ওয়াইআইএল-এর মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে দুটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশীয় ধাতু উৎপাদন বাড়ানো। এর মধ্যে ২৭৭.৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ৩,০০০-টন হেভি ডিউটি হাইড্রলিক ওপেন ডাই ফোরজিং প্রেস বসানো হবে। এটি পুরনো ২,৬৫০-টন ইউনিটের বদলে বন্দুকের ব্যারেল, গোলাবারুদ যন্ত্রাংশ এবং ভারী ফোরজিংস তৈরি করবে।
এর সঙ্গেই, ৪৭৩.৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট তৈরি হবে, যেখানে সুপার অ্যালয় ফোরজিংস, এরিয়াল বম্ব টিউব, অর্ডন্যান্স হার্ডওয়্যার, রেলের অ্যাক্সেল এবং পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। ওয়াইআইএল-এর এই দুটি প্রকল্পেই ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, তেমনই রাজ্যের ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিও উপকৃত হবে।