
কী হবে কলকাতা পুরসভার? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ধরাসায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এবার ছোট লালবাড়ি কি নিজেদের দখলে রাখতে পারবে? তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাম আমলেও দুইবার তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা পুরসভার দখল নিয়েছিল। প্রথমবার ২০০০ সালে, দ্বিতীয়বার ২০১০ সালে। তারপরই ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা ঘাসফুল শিবিরের দখলেই রয়েছে। প্রশ্ন বিজেপির জমানাতেও কি তৃণমূল নিজেদের দখলে রাখতে পারবে কলকাতা পুরসভা?
কলকাতা পুরসভার বিস্তৃতি তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের ১৬টি বিধানসভা আসনে। কলকাতা পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪টি। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার প্রধান, বা মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা বন্দর আসন থেকে এই গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেও বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৫৬০৮০।
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি আসনের মধ্যে বিধানসভা ফল অনুযায়ী ১০১টি আসনে হেরেছে তৃণমূল। মাত্র ৪৩টিতে এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। আগামী ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর এক সপ্তাহ যায়নি। তারই মধ্যে তৃণমূল স্তরে পালাবদল শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার একাধিক অটো ইউনিয়ন গেরুয়া শিবিরে ভিড়ে গিয়েছে। তাই ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার কী চরিত্র থাকবে তাই নিয়েই সংশয় রয়েছে ঘাসফুল শিবিরেই।
আগামী শনিবার ২৫ বৈশাখ বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রথমবারের মত শপথ নেমে বিজেপি সরকার। তারপরই রাজ্যের পুরসভা বা পুরনিগমগুলি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও আশঙ্কা তৃণমূলের। তৃণমূলের একটি অংশের আশঙ্কা নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরসভা বা পুরনিগম নির্বাচনের পথে যেতে পারে বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবির এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই বলেনি।
বাম আমলে দুইবার তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা পুরসভার দখল নিতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১১ সালের পর পুরসভা বা পুরনিগমের ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভোটের প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন ছিল বিরোধীদের। অত্যাধিক পুলিশি সক্রিয়ায় ভোট করানো হতো। কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ে ভোট হয়নি বলেও দাবি বিরোধীদের। এই অবস্থায় কলকাতা পুরসভায় সময় বা নির্ধারিত সময়ের আগে যখনই ভোট হোক না কেন তৃণমূলের পক্ষে ধরে রাখা কঠিন হবে বলেও মনে করছে ঘাসফুল শিবিরের একটি অংশ। তৃণমূলের একটি অংশের আশঙ্কা, কসবা, তিলজলা, তপসিয়া, খিদিরপুর, মোমিনপুর, রাজাবাজর, বালিগঞ্জের মত সংখ্যালঘু এলাকাগুলি তৃণমূল কিছুটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বাকি কোথাও মাথা তুলতে পারবে না।