লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন আবেদনকারীদের টাকা কবে ঢুকবে? পেমেন্ট নিয়ে বড় আপডেট দিল রাজ্য সরকার

Published : Feb 11, 2026, 11:44 AM IST

Lakshmir Bhandar: যারা এই প্রথমবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করছেন বা করার কথা ভাবছেন, তাদের মনে সবথেকে বড় কৌতূহল— "আবেদন তো করলাম, কিন্তু টাকাটা ঠিক কবে হাতে পাব? আজকের প্রতিবেদনে এই বিষয়েই মিলবে তথ্য।

PREV
113

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় এবং সফল প্রকল্প 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে । ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের ভাতা শুধু বৃদ্ধিই করেননি, বরং আবেদনের নিয়মকেও অনেক বেশি সহজতর করেছেন।

213

নতুন নিয়ম ও ভাতার পরিমাণ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে সাধারণ বা ওবিসি (General/OBC) শ্রেণীর মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) শ্রেণীর মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা করে পাবেন।

313

সবথেকে বড় খবর হলো, এখন আর এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য 'স্বাস্থ্যসাথী' কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আধার কার্ড থাকলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন।

413

আবেদন থেকে টাকা পাওয়া: কতদিন সময় লাগে? প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যখন 'দুয়ারে সরকার' ক্যাম্পে বা বিডিও (BDO) অফিসে ফর্ম জমা দেন, সেখান থেকে টাকা অ্যাকাউন্টে আসা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

513

যাচাই প্রক্রিয়া: আপনার জমা দেওয়া ফর্মটি প্রথমে বিডিও (গ্রামীণ এলাকার জন্য) বা মহকুমা শাসক/এসডিও (শহরাঞ্চলের জন্য) আধিকারিকরা যাচাই করেন। তারা দেখেন আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কি না এবং তিনি কোনো সরকারি চাকরি বা পেনশন পান কি না।

613

অনুমোদন: যাচাই শেষ হলে জেলাশাসক (DM) বা কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনারের কাছে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

টাকা আসা: আবেদনটি 'স্যাংশন' বা অনুমোদিত হওয়ার পরবর্তী মাস থেকেই টাকা সরাসরি আপনার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হয়।

713

সাম্প্রতিক বাজেট অনুযায়ী, প্রায় ২০.৬২ লক্ষ নতুন আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি থেকেই এই বর্ধিত টাকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তারা প্রথম দফার টাকা পেয়ে থাকেন।

813

প্রথম আবেদনকারীদের জন্য স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড

যদি আপনি প্রথমবারের জন্য আবেদন করতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

• ধাপ ১: ফর্ম সংগ্রহ: আপনার নিকটস্থ 'দুয়ারে সরকার' ক্যাম্প, বিডিও অফিস বা এসডিও অফিস থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করুন।

• ধাপ ২: সঠিক তথ্য পূরণ: ফর্মটি পূরণ করার সময় আপনার আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক পাসের তথ্যের সাথে মিল রেখে নাম ও ঠিকানা লিখুন। মনে রাখবেন, মোবাইল নম্বরটি যেন চালু থাকে।

913

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা: ফর্মের সাথে নিচের নথিগুলোর Self-attested ফটোকপি দিন:

◦ আধার কার্ড।

◦ ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি (যেখানে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে)।

◦ পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

◦ জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট (SC/ST হলে বাধ্যতামূলক)।

◦ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (যদি থাকে, তবে বাধ্যতামূলক নয়)।

1013

ধাপ ৪: জমা ও রসিদ সংগ্রহ: নথি সহ ফর্মটি নির্দিষ্ট কাউন্টারে জমা দিন এবং অবশ্যই একটি প্রাপ্তি রসিদ (Acknowledgment Receipt) বুঝে নিন।

1113

ধাপ ৫: স্ট্যাটাস চেক: আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে আপনার আধার নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে আবেদনের স্থিতি পরীক্ষা করতে পারেন

1213

মনে রাখবেন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয় (DBT Mode)। তাই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যেন অবশ্যই সচল থাকে এবং আধারের সাথে লিঙ্ক করা থাকে। যদি আবেদন করার দীর্ঘদিন পরেও টাকা না আসে, তবে আপনি সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ০৩৩-২২১৪৩৫২৬-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

1313

বাংলার মা-বোনেদের আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নারী-কেন্দ্রিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সঠিক নথিপত্র দিয়ে আবেদন করলে আপনিও খুব শীঘ্রই এই সরকারি সহায়তার অংশীদার হতে পারবেন।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories