
Mukul Roy News: প্রয়াত বঙ্গ রাজনীতির একদা চাণক্য মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার রাতে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল রায়। প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীন নেতা। রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মুকুল রায়ের জন্ম ১৭ এপ্রিল, ১৯৫৪। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ায়।
শিক্ষা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন
পরবর্তীকালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ডিগ্রি অর্জন করেন
রাজনৈতিক জীবনের শুরু:-
যুব কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখেন মুকুল রায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়
তৃণমূল কংগ্রেস ও উত্থান:-
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। কংগ্রেস ছেড়ে চলে আসেন তৃণমূলে মুকুল রায়। মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সদস্য। দীর্ঘ সময় রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুকুল রায়। সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁর অভিভাবকত্বে রকেটের মতো ছুটেছে তৃণমূল। বঙ্গে বাম সাম্রাজ্যের পতন থেকে দিল্লির মন্ত্রীপদ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুই দশক যেন মুকুলের জন্যই সাজিয়ে রেখেছিল ‘রাজনীতির ঈশ্বর’। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে উঠে আসেন তিনি। তাঁর একের পর এক কূটনৈতিক চাল ও দলের বিপুল সাফল্যের জেরে বঙ্গ রাজনীতিতে চাণক্য উপাধি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আড়ে বহরে বঙ্গ তথা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের আধিপত্য যত বেড়েছে দলের তরফে পুরস্কৃতও হয়েছেন চাণক্য। বিধায়ক, রাজ্যসভার সাংসদ থেকে ইউপিএ সরকারে নৌপরিবহন, রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক দেওয়া হয় তাঁকে।
রেলমন্ত্রী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১১-২০১২ সালে মুকুল রায় ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী, জাহাজ মন্ত্রক এবং রেল মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। পরবর্তীতে তৃণমূলের সঙ্গে মতভেদের জেরে দল ছাড়েন মুকুল রায়।
২০১৭ সালে বিজেপি যোগ দেন মুকুল রায়। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতার বড় হাত ছিল বলে মনে করা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন মুকুল রায়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়।
যদিও বঙ্গ রাজনীতিতে ততদিনে নিজের ভুল চালের জেরে নিজের ‘চাণক্য’ তকমা হারিয়েছেন মুকুল রায়। একইসঙ্গে হারিয়েছেন বিধানসভায় বিধায়ক মুকুলের বিশ্বাসযোগ্যতাও। ২০২১ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন তিনি। পাশাপাশি, ডিমেনশিয়াও ছিল তাঁর। যুগল ভবনের দোতলায় এভাবেই জীবনের শেষ অধ্যায় শেষ হল একদা বঙ্গ চাণক্য মুকুল রায়ের