
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ মহুয়া মৈত্র বুধবার অভিযোগ করেছেন যে, নতুন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বিজেপি কর্মীরা হাজার হাজার ফর্ম-৬ জমা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মহুয়ার দাবি, "গত দু'দিন ধরে বিজেপির কর্মীরা ৩০ থেকে ৪০ হাজার ফর্ম-৬ সহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এই ফর্ম-৬ দিয়ে যেকোনো নতুন ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলতে পারেন। একটা বুথে অনেক নতুন ভোটার নাম তুললেও, কোনো দলের বুথ-স্তরের এজেন্ট বড়জোর ৫০টা ফর্ম-৬ সংগ্রহ করতে পারে।"
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "যদি আপিল কেসে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার নিয়ম না থাকে, তাহলে বিজেপির বুথ এজেন্টরা হাজার হাজার ফর্ম-৬ কীভাবে জমা দিচ্ছে? মহারাষ্ট্রে তো ৫ মাসে ৪০ লক্ষ নতুন ভোটার যোগ হয়েছে..." আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে যখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই মহুয়ার এই মন্তব্য বিরোধীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে, তৃণমূল সমর্থকরা কলকাতার চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) অফিসের কাছে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্না শুরু করে। তাদের অভিযোগ, ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অনিয়ম হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনে পড়েছে। তৃণমূল ও ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কর্মীদের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শাসক দলের সমর্থিত বুথ-স্তরের অফিসাররা (BLO) জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন লাগাতার চলবে। তাদের অভিযোগ, চিফ ইলেকশন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন, যা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা একযোগে দাবি জানিয়েছে, "কলকাতার চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের অফিসে যারা একসঙ্গে এতগুলো ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।"
মঙ্গলবার এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বুথ-স্তরের অফিসাররা (BLO) দাবি করেন যে, তাঁরা একজন বিজেপি কর্মীকে ৪০০-র বেশি ফর্ম-৬ নিয়ে CEO-র অফিসে ঢুকতে বাধা দেন। এই ফর্ম-৬ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক ফর্ম দেখে তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে।
এই ঘটনার পরেই মঙ্গলবার অফিসের বাইরে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিজেপি সমর্থকরাও সেখানে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হিংসা ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিজেপি ও তৃণমূলের ৫০০-র বেশি সমর্থক এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, যা প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া আটকাতে লাঠিধারী কর্মীরা হালকা বলপ্রয়োগ করে।
এই অশান্তির পর বুধবার ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বড় জমায়েত আটকাতে CEO অফিসের কাছে হেয়ার স্ট্রিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে যান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। CEO অফিসের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জারি থাকবে। দু'পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় এবং বিক্ষোভ কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় CEO অফিসের চারপাশের পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। ফর্ম-৬ বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থায় যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।