
Mamata Banerjee News: আসন্ন বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly election 2026)। রাজ্যে প্রথম দফায় ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল। তার আগে চতুর্থবারের জন্য দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে নিজের মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পা হেঁটে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে নিজের মনোনয়ন জমা দেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভবানীপুর নিয়ে বলতে গিয়ে কিছুটা যেন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে সুর চড়াতে ভোলেননি SIR ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া নিয়ে।
এদিন সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''এখানেই আমার সবকিছু। ভবানীপুরেই আমার ধর্মকর্ম সব।'' ফলে এই কেন্দ্রে মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্ধী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) থাকলেও জয়ের ব্যাপারে তিনি যেও নিশ্চিত এদিন সেই সুরও শোনা গেল তার গলায়। আরও বলেন, ''এবারও আমরাই সরকার গড়ব। ছোট্টবেলা থেকেই এখানেই আছি, এখানেই থাকি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ এবং নমস্কার জানাই।'' তবে কেবল ভবানীপুরে নয়, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূল বা তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কয়েকদিন আগেই নদীয়ার জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। নেপথ্যে পাক মন্ত্রীর কলকাতা আক্রমণের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, ভোটের আবহে এবার জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি নিয়ে কেন্দ্রকে নজিরবিহীন আক্রমণ শাণান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্যু, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের এক বিস্ফোরক দাবি। পাক মন্ত্রী সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন, প্রয়োজনে কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে তাঁদের দেশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনও ভারত সরকারের তরফে মেলেনি কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া। রবিবার নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, তাঁর ভাষণে একবারের জন্যও উঠে আসেনি পাকিস্তানের এই হুমকির প্রসঙ্গ। সোমবার নদীয়ার সভা থেকে এই মৌনতাকেই নিশানা করে মমতা বলেন, "পাকিস্তানের এক মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে? কেন মোদী গতকাল এসে এই নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না? কেন বলতে পারলেন না যে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে? তিনি কেন চুপ?"
শুধু আক্রমণই নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর প্রশ্ন, "পাকিস্তানের ওই মন্ত্রীকে দিয়ে কে এমন কথা বলিয়েছে? আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। কলকাতাকে আক্রমণের কথা বললে বাংলার মানুষ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।"