Mamata Banerjee News: ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রী। কোন কোন পদ ছাড়লেন? বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি।।
পদ ছাড়লেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভোটের আগে তেইশটি কমিটি - পর্ষদের শীর্ষ পদ ছাড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ম মেনে একাধিক সরকারি সংস্থা, কমিটি ও পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ২৩টি কমিটি ও পর্ষদ থেকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৫ মার্চের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তার রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
27
হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
সূত্রের খবর, যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরে দাঁড়িয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে—স্টেট হেলথ মিশন, সোসাইটি ফর হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সারভিলিয়ান্স, স্টেট বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ, ইকো ট্যুরিজম অ্যাডভাইজারি বোর্ড, বাংলা সংগীত মেলা আয়োজন কমিটি।
37
কোন-কোন পদ ছাড়লেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রী?
বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান কমিটি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি, উর্দু অ্যাকাডেমির গভর্নিং বডি, স্টেট ল্যান্ড ইউজ বোর্ড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড এবং স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি সহ একাধিক সংস্থা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে সরকারি পদে থেকে কোনও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এড়ানো এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
57
কমিশনকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি একটি নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেন। তাঁর হাতে ছিল একটি খবরের কাগজের অংশ, যেখানে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপির স্ট্যাম্প বা সিলমোহর রয়েছে। এই প্রমাণ হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে”।
67
রাজ্যোর সর্বোচ্চ নেত্রীর অভিযোগ কী?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই স্ট্যাম্প বিতর্কের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে নির্বাচন কমিশন আসলে কার নির্দেশে এবং কার অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের একটি চিঠি কেরলের সিপিএম সম্প্রতি সামনে এনেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কমিশনের চিঠিতে বিজেপির স্ট্যাম্প রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘ক্ল্যারিক্যাল মিসটেক’ বা যান্ত্রিক ত্রুটি বলে সাফাই দেওয়া হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা মানতে নারাজ।
77
রদবদল নিয়েও ক্ষোভ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
শুধু স্ট্যাম্প বিতর্কই নয়, রাজ্যে প্রশাসনিক ও পুলিশ স্তরে বড়সড় রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের ঠিক আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ চাপানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বাংলার ৫০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।