
বিধানসভা ভোটের পর দিনে দিনে কোনঠাসা হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল ইতিমধ্যেই ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে। তৃণমূলের প্রতীক ও তৃণমূলের তহবিল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কিন্তু এই অবস্থায় আবারও নন্দীগ্রাম থেকেই কী ঘুরে সংসদীয় রাজনীতিতে কামব্যাক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জল্পনাই বাড়িয়ে দিল মদন মিত্রের একটি মন্তব্য।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ঋতব্রতপন্থী ও কালীঘাটপন্থীদের মধ্যে। বিষয়টি এখনও নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। কিন্তু উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পরে আসল তৃণমূল কে, তাই নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার তৃণমূলের যুযুধান দুই শিবিরকেই ডেকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে হবে এই বৈঠক। দুই শিবিরের পাঁচ জন করে প্রতিনিধি এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দুই শিবিরকেই বুধবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ডাকা হয়েছে শনিবার বেলা ১১টায়। এর ঠিক এক ঘণ্টা পরেই বেলা ১২টা নাগাদ বৈঠকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের। দুই শিবিরকেই আগে থেকে প্রতিনিধিদের নাম আর গাড়ির নম্বর -সব বিস্তারিত তথ্য ইমেল করে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এই অবস্থায় ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্রের একটি মন্তব্য রীতিমত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মদনের মন্তব্যে মমতাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা। যা বাড়িয়ে দিয়েছে উপনির্বাচনে মমতার প্রার্থী হওয়ার আশা। একই সঙ্গে কালীঘাট ও ঋতব্রতপন্থীদের বিবাদের অবসানও। কিন্তু মদনের এই মন্তব্যের পর এখনও পর্যন্ত কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জননেত্রী। তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী। আমরা চাই আমরা চাই এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন।' এখানেই শেষ নয়। মদন মিত্র আরও বলেছেন, উনি প্রার্থী হলে প্রতীক ইত্যাদি কোনও ব্যাপার নয়। ঋতব্রত শিবিরও প্রার্থী দেবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মদন।
মদন মিত্র আহ্বানের পাশাপাশি মমতা প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,'আমাদের অনুরোধ পাশ কাটিয়ে যাবেন না। কে বিজেপির বি টিম তা প্রমাণ হয়ে যাক! পরে উনি আমাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে না হয় হারানোর চেষ্টা করবেন। এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মাঠে একটা লড়াই হোক।'হন
২০২১ সাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে হটসিট নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্র প্রথম দেখেছিল শুভেন্দু অধিকারী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারও। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবেই পরিচিত। নন্দীগ্রাম আন্দোলনেরও সামনের সারিতেও ছিলেন তিনি।
২০২১ সাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে হটসিট নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্র প্রথম দেখেছিল শুভেন্দু অধিকারী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারও। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবেই পরিচিত। নন্দীগ্রাম আন্দোলনেরও সামনের সারিতেও ছিলেন তিনি।
একটা সময় মমতার ঘনিষ্ট হিসেবেই পরিচিতি ছিল মদন মিত্রের। এই অবস্থায় মদন মিত্রের প্রস্তাব রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মমতা যদি নন্দীগ্রামের প্রার্থী হন তাহলে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে তার বিবাদ দূর হবে। পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক আর তহবিল হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকে জিতে যদি বিধানসভায় যেতে পারেন তাহলে তিনি হতে পারেন অঘোষিত বিরোধী নেত্রী। যা কিছুটা হলেও চাপে রাখতে পারে শাসক দল বিজেপিকে।