
লিওনেল মেসির কলকাতা সফর, যা ‘GOAT ট্যুর’ নামে পরিচিত, তার মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ দায়ের করেছেন। শতদ্রুর দাবি, অনুষ্ঠানের টিকিট নয়ছয় করা হয়েছে এবং অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়া নিয়ে তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির এই অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। চড়া দামে টিকিট কেটেও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মেসি আগেভাগে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দর্শকরা স্ট্যান্ডের গেট ভাঙার চেষ্টা করেন এবং জলের বোতল ছুড়তে থাকেন।
ক্ষুব্ধ দর্শকদের অভিযোগ ছিল, অনুষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত খারাপ ছিল এবং ভিআইপি ও রাজনৈতিক নেতারা মেসির পুরো সময়টা দখল করে রেখেছিলেন, যার ফলে সাধারণ ভক্তরা এক ঝলকও প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন কিছু উত্তেজিত দর্শক মাঠে ঢুকে প্যান্ডেল এবং গোলপোস্ট ভাঙচুর করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মৃদু বলপ্রয়োগ করতে হয়।
ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শতদ্রু দত্ত, অরূপ বিশ্বাস, তাঁর আত্মীয় এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় গলদ ছিল। অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়া নিয়ে তাঁর ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল এবং তাঁর প্রশ্ন, তিনি নিজে সবটা নিয়ন্ত্রণ করা সত্ত্বেও কীভাবে এতজন অননুমোদিত লোক ভিতরে ঢুকল?
শতদ্রু আরও অভিযোগ করেন যে, অরূপ বিশ্বাস টিকিট নিয়ে নয়ছয় করেছেন এবং অনুষ্ঠানের অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। শতদ্রু জানিয়েছেন যে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করার পরিকল্পনা করছেন। এর পাশাপাশি একটি মানহানির মামলাও করবেন তিনি। তাঁর জোর দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
শতদ্রু দত্ত বলেন, “আমি এখানে ক্রীড়ামন্ত্রী (অরূপ বিশ্বাস) এবং তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এসেছি। এছাড়াও, কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা যারা অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকেছিলেন এবং বিশেষ করে সেদিন পুলিশের ব্যর্থতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আমার কাছ থেকে টিকিট নিয়েছিলেন, আমার সন্দেহ উনি সেগুলো কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। অ্যাক্সেস কার্ড দেওয়া নিয়ে উনি আমাকে মারাত্মক হুমকি দেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অ্যাক্সেস কার্ড দিতে অস্বীকার করার পরেও লোকেরা ঠিকই অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েছিল। ওরা কীভাবে ঢুকল? আমি এই সমস্ত বিষয় নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি... আমি ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করব এবং একটি আলাদা মানহানির মামলাও করব... ওঁরা আমাকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে। এই তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হতেই হবে।”