
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় রাজ্যের সরকারি কর্মীদের DA বা মহার্ঘ ভাতার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটেই রাজ্য় সরকারি কর্মীদের DA জট কাটাতে আসরে নামতে চলছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই সরকারি কর্মীদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ আন্দোলন মঞ্চেও উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রী হয়ে আন্দোলনকারীদের ভুলে যাননি তিনি।
এবার রাজ্য সরকারী কর্মীদের DA জট কাটাতে আসরে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৩০ মে মহার্ঘ ভাতা বা DA নিয়ে আলোচনা করতে শুভেন্দু অধিকারী সরকারী কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। বেলা ১১টায় এই বৈঠক হবে নবান্ন সভাঘরে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪টি সংগঠনকে আলোচনায় ডাকা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ , ইউনিটি ফোরাম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ আলোচনায় ডাক পেয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, যারা ডিএ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আইনি লড়াই লড়়ছিলেন তাদের নেতাদেরও মূলত আলোচনায় ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর,আইনি লড়াইকে পাশে রেখে কী করে সরকারি কর্মীদের দাবি ও সমস্যাগুলি সমাধান করা যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে। সরকারি কর্মীদের দাবিগুলি যাতে দ্রুত পুরণ হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের।
সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি তাদের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসতে দেখা যায়নি। আর সেই কারণেই এই ঘটনা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন সরকারি কর্মীরা। যদিও আলোচনায় ডাক না পাওয়া সরকারি কর্মীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, সরকারি কর্মীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী DA-সহ একাধিক বিষয়ে নিয়ে কথা বলতে পারেন। ডিএ জট আগামী শনিবার কেটে যেতে পারে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি মত DA বা সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে তেমন কোনও ঘোষণা হয়নি। তাই মনে করা হচ্ছে এই বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সরকারি কর্মীরা ২টি বিষয়ে নজর দিচ্ছেনঃ
২০০৮-১৯ সাল সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া DA মেটানোর জন্য পূর্বতন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের পর সামান্য টাকাই পূর্বতন সরকার দিয়েছিল। যার মোটা এখনও বাকি রয়েছে। অর্থ দফতরের হিসেব অনুযায়ী বকেয়া মেটাতে রাজ্যের প্রয়োজন ৪০,০০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ৪% DA পাচ্ছে। সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮% DA। অর্থাৎ ফারাক রয়েছে ৪২%। এই টাকা দিতে হবে রাজ্যের কোষাগারে প্রয়োজন অতিরিক্ত ৩০.০০০ কোটি টাকা।
আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজ্য রাজকোষের পক্ষে একলপ্তে এত বড় বোঝা বহন করা অত্যন্ত কঠিন হলেও, শুভেন্দু সরকার কর্মচারীদের এই দাবির প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। অর্থ দপ্তরের এক কর্মচারী জানান, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সরকার পরিবর্তন হলে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।
তবে প্রশ্ন একটাই, কবে মেটানো হবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা। নবান্নের একটি সূত্রের খবর, মে বা জুন নয়, পুজোর আগে আগেই রাজ্য সরকারী কর্মীদের পকেটে ঢুকবে মোটা অঙ্কের টাকা। যার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হবে নবান্ন সভাঘরে কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই।