
টানা অবস্থানের পর গত বৃহস্পতিবার সাত দফা দাবিতে বিকাশ ভবন ঘেরাও অভিযান করে চাকরিহারারা। কোনও পরীক্ষা নয়, সরকারকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সসম্মানে চাকরি ফেরানোর দাবি চাকরিহারারা শিক্ষকদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকরিহারারাদের বিক্ষোভ ঘিরে বিকাশ ভবনের সামনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মেন গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়লেন চাকরিহারাদের একাংশ। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। যা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাশ ভবন ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের’ সদস্যেরা। সেইমতো বিকাশ ভবনের সামনে জড়ো হন শয়ে শয়ে চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। ক্রমেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মূল ফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে চাকরিহারারা শিক্ষকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পুলিশ আধিকারিকরা। এই ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে, রাজ্য সরকার যে মানবিক ভাবে তাঁদের পাশে রয়েছেন এই বার্তা এর আগেও নেতাজি ইন্ডোরে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক থেকে তিনি জানিয়েছিলেন। এবার তিনি বলেন, ‘’প্রত্যোকটা আন্দোলনের একটা নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।''
এদিন উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘’কোর্টের কিছু বাধ্য বাধকতা থাকে। আমরা কখনই বলতে পারি না যে, কোর্টের রায় মানব না। আমার যথেষ্ট সিমপ্যাথি ছিল। থাকবে। আমি বলেছিলাম রিভিউ করব।''
এদিন মুুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘’আমরা যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতি সব সময় মানবিক। এখনও পর্যন্ত কারও বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়নি।'' তিনি আরও জানান, গ্রুপ-সি, ডি কর্মীদেরও স্কীমের মাধ্যমে মাইনে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে দমদম বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘’চাকরিহারাদের আন্দোলনে যারা উস্কানি দিচ্ছেন, তাঁরাই তো কোর্টে গিয়ে মামলা করেছিলেন। নাটের গুরুরা যদি স্বার্থরক্ষার গুরু হয়ে যায় তাহলে মুশকিল।''
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘’আন্দোলনকারীদের রাজ্য সরকারের উপর আস্থা, ভরসা রাখা উচিত ছিল। তাঁদের কাছে সৌজন্য-সম্মান আশা করেছিলাম।''
শুধু তাই নয়, এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের তিনি আরও একবার মনে করিয়ে দেন যে, “আন্দোলন করার একটা লক্ষণরেখা আছে। এভাবে লড়াই না করে আইনি লড়াই করুন। আমরা আপনাদের বিপক্ষে নই। কোনও রাজনৈতিক দল যদি মনে করে জলঘোলা করবে। তাহলে তাদের বলব মামলা কেন করলেন।''
প্রতিশ্রুতি হচ্ছে না ফলপ্রসূ। তাই কার্যত বাধ্য হয়েই বিকাশ ভবন ঘেরাও করে তাঁরা জানিয়ে দেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে। কিন্তু যে ভাবে বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের ভিতরে সরকারি কর্মীদের আকে রাখা হয়েছিল তা নিয়েও মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘’আন্দোলনের নামে এভাবে কাউকে জোর করে আটকে রাখা যায় না।''
চাকরি হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। চাকরিহারা অশিক্ষককর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু চাকরি ফেরানোর কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ নেই বলেই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।