
WB Govt Nipa Virus: করোনাকাল অতীত। প্রায় পাঁচবছর পর ফের নতুন করে জনমানষে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নিপা ভাইরাস। আর নিপা সতর্কতায় এবার চিকিৎসার নতুন গাইডলাইন ও কোয়ারেন্টাইন নিয়ম প্রকাশ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিপা ভাইরাস মোকাবিলায় নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। নিপা ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা কমাতে এবং চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ঝুঁকি অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে এবং ওষুধের ডোজও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
১. ঝুঁকি অনুযায়ী নজরদারি:
* উচ্চ ঝুঁকি (High Risk) : যারা রোগীর শরীরের তরল (রক্ত, লালা, বমি ইত্যাদি) সংস্পর্শে এসেছেন বা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় রোগীর কাছাকাছি ছিলেন। তাদের ক্ষেত্রে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। দিনে ২’বার স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন।
* স্বল্প ঝুঁকি (Low Risk): যারা রোগীর পোশাক বা ব্যবহৃত জিনিস স্পর্শ করেছেন। তাদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।
২. ওষুধের মাধ্যমে প্রতিরোধ :
উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের এবং সুরক্ষা ছাড়া রোগীর সেবা করা ব্যক্তিদের জন্য Ribavirin (২-বার ১৪ দিন) অথবা Favipiravir দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত সুরক্ষা (PPE) নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের কোনো বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই।
৩. চিকিৎসা পদ্ধতি: যাদের শরীরে উপসর্গ দেখা যাবে এবং RT-PCR টেস্ট পজিটিভ আসবে, তাদের দ্রুত হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসার জন্য Remdesivir ইনজেকশন এবং Ribavirin বা Favipiravir ট্যাবলেটের সংমিশ্রণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমতি নিয়ে 'মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি' ব্যবহারের সুযোগও থাকছে।
৪. সুস্থ হওয়া ও ছুটি : হাসপাতাল থেকে ছুটি পেতে হলে রোগীকে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল হতে হবে। পাশাপাশি, গলা ও প্রস্রাবের নমুনা এবং রক্ত—তিনটি পরীক্ষারই রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার নেগেটিভ আসতে হবে। ছুটি পাওয়ার পর রোগীকে পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ফলো-আপে থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, নিপা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এই নিয়মগুলো মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি কারোর জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মানসিক বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।