
মাত্র ৪ জন সদস্য। আর তাতেই কেল্লাফতে করে দিল বিজেপি। রীতিমত নাটকীয় পরিস্থিতিতে মালদা জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি। যদিও জেলা পরিষদ দখলেও রীতিমত রিসর্ট রাজনীতির ছায়া পড়েছিল। কংগ্রেসের ঘেরাটোপ উপেক্ষা করেই তৃণমূলের সদস্যরা বিজেপি পক্ষেই চলে যায়।
ঘটনার সূত্রপাল গত জুন মাসে। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই ছিল মালদা জেলা পরিষদ। তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ ও সহসভাপতি আবু তাহেল রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন দলেরই ১৯ জন সদস্য। অনাস্থা প্রস্তাব আনেন কংগ্রেসের ৫ সদস্যও। ৪৩ আসনের মামলা জেলা পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪। জেলা পরিষদ দখলের জন্য প্রয়োজন ২২ জন সদস্যের সমর্থন। তৃণমূলের সদস্যরা বিজেপির দিকে চলে যাওয়ায় বিজেপিই এখন মালদা জেলা পরিষদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।
মালদা জেলাপরিষদে মোট আসন ৪৩টি। সভাধিপতি এবং সহকারি সভাধিপতি গঠন করার জন্য প্রয়োজন ২২জন সদস্যের সমর্থন। সেখানে বিজেপি শিবিরে রয়েছেন ২৪ জন সদস্য। উল্লেখ্য, এই ২৪ জনের মধ্যে বিজেপির নিজস্ব সংখ্যা রয়েছেন মাত্র ৪জন এবং বাকিরা রয়েছে তৃণমূল শিবিরের জেলাপরিষদ সদস্য। সূত্রের খবর সভাধিপতি হচ্ছেন বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্যা দীপালি বালা। সহকারি সভাধিপতি হলেন তৃণমূলের লিপিকা বর্মন ঘোষ।
কংগ্রেস এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ওই অনাস্থা প্রস্তাবে। অভিযোগ, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনাস্থা পরবর্তী তলবি সভা ডাকতে গ়়ড়িমসি করে প্রশাসন। সেই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস এবং বিক্ষুব্ধ তৃণমূল। আদালত প্রশাসনিক কর্তাদের তলবি সভা ডাকার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ মেনে স্থানীয় প্রশাসন তলবি সভার দিনক্ষণ ঠিক করে। নাটকীয় ভাবে সেই সভার দু’দিন আগে সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন লিপিকা, রফিকুল। পদত্যাগের ফলে তলবি সভা আটকে যায়। সেই জটিলতায় আবার আদালতের দ্বারস্থ হন অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থকেরা। আদালত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে। সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জেলা ডিভিশনাল কমিশনারকে নির্দেশ দেয় আদালত। শান্তিপূর্ণ ভাবে বৈঠক যাতে হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, সকল সদস্য যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও ছিল আদালতের। সেই মতো মঙ্গলবার জেলা পরিষদে ভোটাভুটি ছিল। যদিও বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যদের নিজের দিকে টানতে মরিয়া চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু তার আগেই বিজেপি তৃণমূল নেতাদের ঝাড়খণ্ডে নিয়ে যায়। কিন্তু কংগ্রেসের হাতে ২৪ সদস্য থাকলেও তারা বোর্ড গঠন করতে পারেনি।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.