Mamata Banerjee Tone Change:রামলীলা ময়দানে সোনিয়া গান্ধীকে 'আমার নেত্রী' বলে সুর বদল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় হারের মাত্র ৪ মাসের মধ্যে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটকে আঁকড়ে ধরার ১০টি কারণ জেনে নিন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোট শেষ হয়েছে মাত্র চার মাস। এর মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চার মাস আগেও বঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি ছাড়া বাকি বিরোধী বাম-কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেছিলেন মমতা। ইন্ডিয়া জোটের মূল নেতা হিসেবে রাহুল-সোনিয়ার নেতৃত্বকে বারবার চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সেই মমতাই দিল্লির রামলীলা ময়দানে রীতিমতো সুর বদল করলেন।
210
সোনিয়াকে 'আমার নেত্রী' বললেন মমতা
মঞ্চে সোনিয়া গান্ধীকে 'আমার নেত্রী' বলে সম্বোধন করেছেন তৃণমূল নেত্রী। যে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি তৃণমূল গড়েছিলেন, সেই দলের শীর্ষ নেত্রীকে এই সম্মান জোটের অন্দরের সমীকরণে বড় বদলের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দলের "নেতা" এবং রাহুল গান্ধীকে "তরুণ নেতা" বলে সম্বোধন করেছেন মমতা। কংগ্রেসের নেতৃত্বকে এমন খোলাখুলি স্বীকৃতি তাঁর অতীত অবস্থানের সঙ্গে বেশ বেমানান।
310
বামেদের দিকেও বাড়ানো হাত
বাংলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাম দলগুলিকেও দিল্লির মঞ্চ থেকে কাছে টানার বার্তা দিয়েছেন মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের জন্য পুরনো রাজনৈতিক বিরোধ সরিয়ে রাখার ইঙ্গিত স্পষ্ট। যদিও এর আগেও বিধানসভা ভোটে হারের পর থেকেই বাম দলগুলির প্রতি নরম মনোভাব দেখিয়েছেন মমতা। রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাম দলগুলিকে তাঁর দলের সঙ্গে জোট বাঁধার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে বাম দলগুলি মমতার সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে।
মাস ছয়েক আগেও জাতীয় স্তরে নিজেকে বিকল্প মুখ হিসেবে বা প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন মমতা। তাঁর দলও একই পথ নিয়েছিল। মমতা বারবার রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে কংগ্রেসের উত্থানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁর দল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসকেই বিজেপির প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দাবি করেছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটে হারের পর নিজের দলই ধরে রাখতে পারেননি মমতা। তাঁর তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে তিন টুকরো। এই অবস্থায় রাজ্য রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
510
শুভেন্দু বনাম মমতা
রাজ্য রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে মমতা। প্রথমে নন্দীগ্রাম, আর শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হার তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দগদগে ঘায়ের মতো অবস্থা। কারণ এর আগে তিনি কোনওদিনই কোনও নির্বাচনে হারেননি। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী আবারও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, আবার ভোটে দাঁড়ালে আবারও হারবেন মমতা। এই অবস্থায় নিজের রাজনৈতিক জীবন বাঁচাতে পুরনো দল কংগ্রেসের ওপরই আস্থা রেখেছেন মমতা।
610
কেন্দ্রীয় চাপ আর আইনি রক্ষাকবচ
ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির ধারাবাহিক তদন্ত এবং রাজ্যের একাধিক বিষয়ে আইনি জটিলতার মুখে পড়ে সমস্ত বিরোধী দলকে পাশে পাওয়ার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মমতা, অভিষেক-সহ এখনও পর্যন্ত কালীঘাটপন্থী একাধিক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সেগুলিতে রীতিমতো জেরবার মমতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। এই অবস্থায় বিরোধী দলগুলিকে পাশে নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের হাত শক্ত করতে চাইছেন মমতা।
710
বিজেপি বিরোধী একক লড়াইয়ের সীমাবদ্ধতা
একা লড়ে বিজেপিকে না রাজ্য স্তরে, না জাতীয় স্তরে রোখা যাবে—এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই তৃণমূল নেত্রী কংগ্রেসের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে জোটের বাধ্যবাধকতাকে আঁকড়ে ধরেছেন, যা তাঁর পূর্ববর্তী 'একলা চলো' নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। কংগ্রেসের সঙ্গে ২৮ বছরের রাজনৈতিক দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টা করেছেন তিনি, তেমনই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। যে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েছিলেন, সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই ফের সমঝোতার সম্ভাবনা।
810
লোকসভা-বিধানসভায় কোণঠাসা মমতাপন্থীরা!
দিল্লিতে বিরোধী জোটের শক্তি বাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করাই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম লক্ষ্য। কারণ রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো কোণঠাসা তিনি ও তাঁর অনুগামীরা। উল্টে কে আসল তৃণমূল, তাই নিয়েই বিধানসভা আর লোকসভা দুই ক্ষেত্রেই তাঁকে আইনি লড়াইয়ের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
910
২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনই কি লক্ষ্য?
২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর জন্যই দিল্লি ভরসা মমতার। কারণ রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলি এখনও উজ্জ্বল রাজ্যবাসীর মনে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী, একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছে শুভেন্দুর সরকার। স্বজনপোষণের অভিযোগও ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। এই অবস্থায় মমতার শেষ ভরসা ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন। সেখানে বিজেপিকে হারাতে পারলে রাজ্য রাজনীতিতে কিছুটা হলেও হারানো জমি খুঁজে পাবেন তিনি।
1010
শেষ ভরসা দিল্লি?
বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠার চেষ্টা। এই অবস্থায় জাতীয় স্তরের রাজনীতিকেই মমতা-অভিষেক এখন খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন। যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটা সময় মমতা সরব ছিলেন, সেই কংগ্রেসকেই আশ্রয় করে বেঁচে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে মমতা কিন্তু এক্ষেত্রেও সাবধানী। তিনি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সায় দিলেও রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্বে এখনও পর্যন্ত সায় দেননি। গতকালই দিল্লিতে সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.