
তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাঁদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গিয়েছে। একজনের নাম কৃষ্ণ চৌধুরী। আরেকজনের নাম রোহিত চৌধুরী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানিয়েছেন যে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ১২ থেকে ১৫ জন এখনও আটকে রয়েছেন ধ্বংসস্তূপের নীচে। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। জল ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে উদ্ধারকাজ চলবে। সেই কারণে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামীকাল বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে এই দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "চলতি বছর এই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেহারা ব্রাদার্স এই জমির মালিক। প্রাথমিক ভাবে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, প্ল্যানে ত্রুটি ছিল। পরবর্তী রিপোর্ট পেলে জানাব কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
১২টা ৭ মিনিটে তারাতলার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, 'পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং দমকল দ্রুত উদ্ধারকাজ না শুরু করলে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও লম্বা হত। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, দেরি না করে সেনা নামাব। ৩টে ১৫-৩টে ২০ মিনিট থেকে তারা উদ্ধার শুরু করে। ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসাধীন। সেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ওয়ার ফুটিংয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। NDRF এবং সেনা জানিয়েছে, যে ১২-১৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। জল এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। আমরা আশাবাদী তাঁদেরও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।"
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। নির্মাণের সময় এটি ধসে পড়ে। শ্রমিকরা এটি মেরামত করে কাঠামোটি পুনরায় জোড়া লাগানোর চেষ্টায় গুদামের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে পুরো টিনের চালাটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বহু লোক আটকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেও অনান্য দিনের মতো কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যায়, কয়েকটা জায়গায় ভেঙে পড়ে। সেসময়ে সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকে আবার গোটা কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড।
বর্তমানে, ক্রেনের সাহায্যে লোহার বিমগুলো কেটে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লোহা ও কংক্রিট কাটার জন্য গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা উপর থেকে নীচে ছিদ্র করার (ভার্টিক্যাল ড্রিলিং) মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। ভিতরে যাঁরা আটকে রয়েছেন, তাঁদের কাছে অক্সিজেন, জল, শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে পুলিশ, দমকল, সেনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। গ্যাস কাটার দিয়ে লোহা কেটে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যান। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ পিটিআই-কে বলেছেন, "আমরা অবশ্যই দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনও অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখব। তবে এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হল যত বেশি সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা।"
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.