
রাজ্যের এসআইআর শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। বাদ গিয়েছে, বা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে বহু নাম। এরই মধ্যে যে কোনও দিন পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯৪ জনের প্রার্থী তালিকার দিকে সবার নজর। তবে রাজ্যের শাসক দলের যে দশ কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ রয়েছে সেগুলি একবার দেখে নেওয়া যাক।
একেবারে হাইপ্রোফাইল আসন। গতবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছিলেন। মমতাকে হারিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার খুব সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখান থেকে দাঁড়াচ্ছেন না। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে দাঁড় করায় তা নিয়ে জোর জল্পনা। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় থেকে দেবাংশু ভট্টাচার্যদের জোড়া ফুলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসাবে জল্পনা চলছে। দাপুটে কোনও স্থানীয় নেতাকেও দেখা যেতে পারে।
২০০১ সাল থেকে এখানে তৃণমূলের বিধায়ক পার্থ চ্য়াটার্জি। বাম আমলেও বেহাল পশ্চিম থেকে অনায়াসে জিতেছেন পার্থ। বেহালার এই কেন্দ্র থেকে জিতেই মন্ত্রীও হন তিনি। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর দলে ও এলাকায় কোণঠাসা হয়ে গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। ২৪ বছর পর বেহালা পশ্চিমে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে কোনও নতুন মুখকে দেখা যাবে। খুব সম্ভবত স্থানীয় কোনও জনপ্রিয় কাউন্সিলর এখান থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়বেন। প্রসঙ্গত, ২০০১ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের নির্মল মুর্খাজিকে হারিয়ে বেহালা পশ্চিম থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। এরপর ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ বিধানসভা ভোটে জেতেন পার্থ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিধানসভা কেন্দ্র। গতবার বিধানসভা ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নন্দীগ্রামে হারের পর মুখ্যমন্ত্রীর আসন ভবানীপুরে ফেরেন মমতা। তারপর সেখান থেকে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে সিংহাসন ধরে রাখেন। মমতা ঘোষণা করেছেন, তিনি এবার ভবানীপুর থেকই লড়বেন। এখনই ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে ৪৮ হাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে ভবানীপুরে দিদির জয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাজ্য়ের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্য়ায়ের গড় হিসাবে পরিচত। সুব্রত মুখ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্যুর পর খালি হওয়া বালিগঞ্জে উপনির্বাচনে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হন বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা বাবুল সুপ্রিয়। বাবুলকে এবার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে দল। ফলে বালিগঞ্জে এবার নতুন কাউকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে। জোর জল্পনা, রাজ্যের মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্য়ায়কে খড়দার পরিবর্তে এবার বালিগঞ্জে দাঁড় করানো হবে। তবে এখনও এটা জল্পনার স্তরে রয়েছে।
২০১১ সাল থেকে বারাসাত থেকে টানা তিনবার জিতে বিধায়ক হয়েছেন তারকা অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। গত বিধানসভা ভোটর আগে শোনা গিয়েছিল চিরঞ্জিৎ টিকিট পাবেন না, তবে সদলের স্থানীয়দের কথা না শুনে মমতার নির্দেশে তাঁকে প্রার্থী করা হয়। চিরঞ্জিৎ ভোটে ভাল ব্যবধানে জিতেও যান। তবে বয়সজনিত কারণে টলিউডের তারকা অভিনেতা এবার আর প্রার্থী হচ্ছেন না। শোনা যাচ্ছে স্থানীয় কোনও দাপুটে নেতা অথবা ফের টলিউডের অন্য কোনও তারকাকে এখান থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। ২০২৪ লোকসভায় বারাসত থেকে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। এবার এখানে লড়াই কঠিন।
গত ২৫ বছর ধরে ভাটপাড়া মানেই অর্জুন সিং। ২০০১ সালে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন অর্জুন। এরপর ২০০৬, ২০১১, ২০১৬- বিধানসভায় ফের দিদির দলের প্রার্থী হয়ে জেতেন অর্জুন। এরপর ২০১৯ লোকসভা ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে বারাকপুর থেকে সাংসদ হন। সাংসদ হওয়ায় ভাটপাড়া বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয় অর্জুনকে। ২০১৯ ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে ছেলে পবন সিংকে প্রার্থী করে অনায়াসে জিতিয়ে আনেন অর্জুন। তাঁর কাছে পরাস্ত হন তৃণমূলের দাপুটে মদন মিত্র। ২০২১ বিধানসভা ভোটেও ভাটপাড়া থেকে অনায়াসে বিজেপির টিকিটে জেতেন অর্জুন পুত্র পবন। এবার অর্জুন গড় ভাঙতে কাকে প্রার্থী করে তৃণমূল সেটাই দেখার। গতবার এখানে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন জিতেন্দ্র শ।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক লোকসভার এই কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার অশোক দিন্দাকে হারাতে এবার মরিয়া তৃণমূল। ময়নায় দিন্দার বিরুদ্ধে সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া চন্দন মণ্ডলকে টিকিট দেওয়া হয় কি না সেটা দেখার।
মালদার এই কেন্দ্র বারবারই সবার নজর থাকে। গত দুটি বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিট পেয়ে এখানে হেরে গিয়েছেন একসময়ের দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দু নায়ারণ চৌধুরী। বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর দখলে থাকা ইংরেজবাজারে এবার তৃণমূল কাকে দাঁড়ায় তার দিকে নজর সবার।
গত দুটি বিধানসভা ভোটে খড়গপুরের এই কেন্দ্রে জিতে আসছে বিজেপি। যদিও ২০১৯ উপনির্বাচনে খড়গপুর সদরে জিতেছিল তৃণমূল। তবে ২০২১ বিধানসভায় সেটা পুর্নদখল করে নেয় পদ্মশিবির। ২০১৬ নির্বাচনে এখান থেকে জিতেছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপর গত বিধানসভায় খড়গপুর সদর থেকে জেতেন বিজেপি নেতা তথা টলিউডের তারকা নায়ক হিরণ চট্টোপাধ্য়ায়। এবার এখানে দিদির দলের হয়ে কে দাঁড়ান সেটাই দেখার।
নন্দীগ্রামে হারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে ভবানীপুর উপনির্বাচন প্রার্থী হয়েছিলেন। দলনেত্রীকে জায়গা করে দিতে ভবানীপুর থেকে পদত্যাগ করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। ২০২১ বিধানসভা ভোটের সময় কোভিডে প্রয়াত হয়েছিলেন খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী কাজল ভট্টাচার্য। ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় প্রয়াত কাজ জিতে গিয়েছেন। পরে দলের বর্ষীয়ান-অভিজ্ঞ শোভনদেবকে এই খড়দহ উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বড় ব্যবধানে জিতে খড়দহের বিধায়ক হন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব। এবার হয়তো তাঁকে বালিগঞ্জ থেকে দাঁড় করানো হবে, এবার দেখার খড়দহে প্রার্থী কে হন।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.