West Bengal Assembly Election 2026: “আগে রাম, পরে বাম!" সিপিএম-এর ভোট স্যুইং খেয়ে বিজেপিতে, আবাসনগুলিতেও পদ্ম ঝড়

Published : May 11, 2026, 04:41 PM IST
West Bengal Assembly Election 2026

সংক্ষিপ্ত

West Bengal Assembly Election 2026: একাধিক জায়গায় বামের ভোট সরাসরি গিয়ে পড়েছে রামে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের একটি কথা বলেছিলেন, “এই নির্বাচন একটা সময়, পুরো মমতা vs জনতা হয়ে গেছিল।" ভোটের ফলাফলও সেই কথাই বলছে। তৃণমূল বিরোধী বড় অংশের ভোট বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।

West Bengal Assembly Election 2026: “আগে রাম, পরে বাম।" গত ২০২১ সাল থেকেই মোটামুটি এই স্লোগানটা সামনে আসতে শুরু করে (cpm vote share in west bengal)। আর এবার বাস্তবিক অর্থেই সেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গেল। সিপিএম-এর ভোট পুরো স্যুইং খেয়ে সোজা বিজেপিতে গিয়ে পড়ল। তার কারণ, তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা। বামেদের একটা বড় অংশের ভোট প্রায় সব জায়গাতেই বিজেপির দিকে চলে গেছে (cpim west bengal)। অর্থাৎ, নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি সিপিএম।  

“আগে রাম, পরে বাম!" প্রমাণিত তত্ত্ব?

তার অনেকগুলো কারণও ছিল। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর, সিপিএম-এর একাধিক কর্মীদের উপর আক্রমণ এবং পার্টি অফিস দখল করে তৃণমূল। যা ২০১৬ সালের পরেও জারি ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক বাম কর্মী সেই সময় ঘরছাড়াও ছিলেন। ফলে, এই একটা বড় অংশ গিয়ে নাম লেখায় বিজেপিতে। মানে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই, নিজের সংসার-পরিবারকে বাঁচানোর জায়গা থেকেই এই পরিস্থিতির জন্ম। অনেকে বলে থাকেন, সিপিএম-এর শহুরে নেতারা তখন গ্রামবাংলায় যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ছেদ পড়তে শুরু করে জনসংযোগেও। তার প্রভাব এসে পড়ে ভোট ময়দানে।  

সেইসঙ্গে, অন্যান্য দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরাও বিজেপিতে যোগ দিতে থাকেন। আসলে পাল্টা লড়াইয়ের জন্য একটা শক্তিশালী মঞ্চ খুঁজছিলেন সবাই। এরপর বিজেপি আসতে আসতে নিজেদের কর্মীবাহিনী আরও বৃদ্ধি করতে শুরু করে। অনেক নতুন নেতা-কর্মীরাও পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। সংগঠন জোরালো না হলেও, বিজেপি হাওয়া এবং প্রচার, এই দুইকে হাতিয়ার করে ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করে বিজেপি। 

আক্ষরিক অর্থেই, বাম নেতারা নিচু তলার কর্মীদের মন বুঝতে পারেননি এবং অনেকাংশে তাদের পাশেও থাকতে পারেননি। যার ফলে, অনেকেই চলে যান বিজেপিতে। আর সেই সময় থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেন যে, “আগে রাম, পরে বাম।" 

অর্থাৎ, তৃণমূল সরকারের পতনই হল মূল লক্ষ্য। তবে একটা প্রশ্ন তো উঠবেই, বামেরা কেন অল্টারনেটিভ হতে পারল না? প্রথম কথা, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নীতির লড়াইয়ের পাশাপাশি উপযুক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজন। থাকতে হবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতাও। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে হবেন? এইসব কিছুই পরিষ্কার ছিল না সাধারণ মানুষের কাছে।   

পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে একটা বড় অংশের সাধারণ মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনেক বাম ভোটার এবং তৃণমূল ভোটারও রয়েছেন। যারা আগে সিপিএম, তৃণমূল কিংবা কংগ্রেসকে ভোট দিতেন। এবার সেই ভোটও ট্রান্সফার হয়েছে বিজেপিতে। অন্তত ফলাফল তাই বলছে। ঠিক যেমন সিপিএম-এর কমিটেড ভোটাররা ২০১১ সালে, তৃণমূলকে ভোটটা দিয়েছিলেন। এবার সিপিএম এবং তৃণমূলের বহু কমিটেড ভোটার বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। শুধুমাত্র সরকার বদলানোর লক্ষ্যে। এমনকি, সংখ্যালঘু অংশেরও ভোটও পেয়েছে বিজেপি। 

অর্থাৎ, তৃণমূলের সংখ্যালঘু অংশের ভোটব্যাঙ্ক ভেঙে যেমন সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে গেছে, সেইরকমই আবার গেছে বিজেপিতেও। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে একটি বিষয় জলের মতো পরিষ্কার যে, বড় অংশের ‘বাম' ভোট সোজা ‘রামে'-র দিকে ঘুরে গেছে।  

একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। যেটা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জয়ের পরেই জানান। তিনি বলেন, “ভবানীপুরে সিপিএম-এর ১৪,০০০ ভোট ছিল। তার মধ্যে ১০,০০০ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাই আমি সিপিএম-এর ভোটারদের ধন্যবাদ দিতে চাই।" পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ৭৩,৯১৭ ভোট পেয়েছেন শুভেন্দু এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। আর সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছেন মাত্র ৩,৫৫৬টি ভোট। ১৫, ১০৫ ভোটে মমতাকে হারিয়ে ভবানীপুরে জয় হাসিল করেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

'ভোট ময়দানে ভোটার কারও নয়?

কিন্তু ২০২১ সালের উপ-নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা পেয়েছিলেন ৮৫,২৬৩ ভোট এবং বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল পেয়েছিলেন ২৬,৪২৮ ভোট। অন্যদিকে, সেইবার সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৪,২২৬ ভোট। যদিও মুখ্যমন্ত্রীত্বের জন্য এই কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করেছিলেন। তিনি সেই বছর, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পরাজিত হন। তাই উপ-নির্বাচন করতে হয়। 

সেই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমে তৃণমূল প্রার্থী তথা বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পান ৭৩,৫০৫ ভোট এবং বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ পান ৪৪,৭৮৬ ভোট। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মহম্মদ শাদাব খান পান ৫,২১১ ভোট।  

 

 

মানে দেখা যাচ্ছে,  ২০২১ সালের নির্বাচন এবং উপ-নির্বাচন মিলিয়ে সিপিএম-তৃণমুল-কংগ্রেস প্রায় সব দলেরই বেশিরভাগ ভোট এবারের নির্বাচনে সোজা বিজেপিতে গিয়ে পড়েছে। তাছাড়া ভবানীপুর এমন একটা জায়গা, যেখানে সমস্ত ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ভোটবাক্সে মমতার বিরুদ্ধে বোতাম টিপেছেন। 

এবার আসা যাক, আরেকটা উদাহরণে। ধরা যাক, যাদবপুর কেন্দ্রের কথা। এই কেন্দ্র থেকেও বিজেপি জয় পেয়েছে। গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে যদি দেখা যায়, তাহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সামনে আসবে। এই যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যে কটি  বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, তার মধ্যে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেরা ভোট পেয়েছিল প্রায় ৬০,০০০-এর কাছাকাছি। 

ব্যাপক ভোট ট্রান্সফার

২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী জয়লাভও করেন। কিন্তু ২০২১ সালে, তিনি আবার পরাজিত হন। সেই বছর সিপিএম ভোট পায় ৫৯,২৩১ এবং তৃণমূল পায় ৯৮,১০০ ভোট। তবে বিজেপির উত্থান ছিল চমকপ্রদ। পদ্ম শিবিরের ঘরে যায় ৫৩,১৩৯টি ভোট। ঐ বছর এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন সিপিএম-এর বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলর রিঙ্কু নস্কর। 

 

 

আর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ১,০৬,১৯৯টি ভোট। তৃণমূল পেয়েছে ৭৮,৪৮৩ ভোট এবং সিপিএম-এর ভোট কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪১,১৪৮। অর্থাৎ। বামেদের প্রায় ২০,০০০ ভোট স্যুইং খেয়ে সোজা বিজেপিতে চলে গেছে। পদ্ম শিবিরের জয় এসেছে ২৭,৭১৬ ভোটে। তাও আবার যাদবপুরের মতো কেন্দ্রে। আবারও সেই তত্ত্ব জোরালো হল, বামের ভোট রামে। 

এবার আসা যাক দমদম উত্তর কেন্দ্রের কথায়। গত ২০২১ সালে, এই কেন্দ্রে তৃণমূল পায় ৯৫,৪৬৫ ভোট। এই কেন্দ্র থেকেই জিতে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়েছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিজেপি পায় ৬৬,৯৬৬ ভোট এবং সিপিএম-এর ঝুলিতে যায় ৪৫,৭২৮ ভোট। 

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি পেয়েছে ১,০৩,২৮৪ ভোট, তৃণমূল পেয়েছে ৭৬,৮৮০ ভোট এবং সিপিএম পেয়েছে ৩৮,৪২৮ ভোট। বিজেপির জয় ২৬,৪০৪ ভোটে। 

রাজনীতির ময়দান সরগরম

অর্থাৎ, একাধিক জায়গায় বামের ভোট সরাসরি গিয়ে পড়েছে রামে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের একটি কথা বলেছিলেন, “এই নির্বাচন একটা সময়, পুরো মমতা vs জনতা হয়ে গেছিল।" ভোটের ফলাফলও সেই কথাই বলছে। তৃণমূল বিরোধী বড় অংশের ভোট বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। শুধু তাই নয়, আবাসন এবং হাউজিং কমপ্লেক্সে এবার আলাদা বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে, সেখানকার ভোটও বেশিটাই বিজেপিতে গেছে। কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি সিপিএম এবং তৃণমূল। এমনকি, ১৮-৪০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের অনেক ভোটাররাও এবার পদ্ম ফুলের বোতাম টিপেছেন। 

গত লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম নিজের ভোট ধরে রাখার ফলে, অন্যান্য দলেও কিছু ভোট যাওয়ার নিরিখে এবং বিজেপিতেও অনেকটা ভোট চলে যাওয়াতে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে গেছিল। ফলে, কম মার্জিনে অনেক জায়গায় জিতে যায় তৃণমূল। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। বড় অংশের ভোট সোজা বিজেপিতে গেছে। তাছাড়া এসআইআর-এর জেরে মৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপটে বুথ দখল রুখে দেওয়া এবং তৃণমূলের বিরোধিতা ও নাগরিকত্ব প্রমাণের তাগিদে দূর দূর থেকে ছুটে এসে ভোট দেওয়ার ফলাফল দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ৯০ শতাংশের উপর ভোটদান ইঙ্গিত করছিল পরিবর্তনের।  

বাম ভোট পুরো নির্ণায়ক হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং সিপিএম-এর বড় অংশের ভোট সরাসরি বিজেপিতে চলে গেছে। গেরুয়া পালের চোরাস্রোত যেন ঢেউ হয়ে দেখা দিল। কার্যত, রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়। তাই সেই থিওরিই এবার প্রমাণিত, তথা শিলমোহর পড়ল এই তত্ত্বে, “আগে রাম, পরে বাম।" এই দাবিকে আরও জোরালো করল আরও কয়েকটি বিষয়। তৃণমূল সরকারের পতনের পরেই একধিক দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করল সিপিএম। সেইসঙ্গে, অনেক কলেজে পতাকাও লাগাল এসএফআই। 

বাকি উত্তরটা সময় দেবে। 

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Suvendu Adhikari: 'অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ নয়', কাজ শুরুর প্রথম দিনই আমলাদের সতর্কবার্তা শুভেন্দুর
Yuva Shakti Vs Yuva Sathi: বন্ধ হচ্ছে না যুবসাথী প্রকল্প! মিলবে কি ডবল বেকার ভাতা? অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৪৫০০?