
পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুদফায় ভোটগ্রহণ হবে। ৪ মে হবে ভোটগণনা। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে বাকি ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রবিবার বলেছেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসাম, কেরালা, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে এমন ভোটার রয়েছেন যাঁদের বয়স ১০০ বছরেরও বেশি, অর্থাৎ তাঁরা শতায়ু। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারদের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে মোট ২.১৮ লক্ষ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই থাকবে গ্রামীণ এলাকায়।
কমিশন জানিয়েছে, প্রতি ভোটকেন্দ্রে ভোটারের গড় সংখ্যা ৭৫০ থেকে ৮৫০-এর মধ্যে থাকবে। কোনও অবস্থাতেই এই সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়ে যাবে না। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে 'মডেল ভোটকেন্দ্র' স্থাপন করা হবে। এছাড়া, বিশেষভাবে মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রও থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি, আমাদের দিব্যাঙ্গ (প্রতিবন্ধী) ভাই-বোনেদের দ্বারা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রও থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রবিবার আরও জানান যে, চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ২০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পাশাপাশি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র যেন 'নিশ্চিত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা' (AMF)—যেমন পানীয় জল, অপেক্ষাগার, জলের সুবিধাসহ শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের (PwD) জন্য উপযুক্ত ঢালযুক্ত র্যাম্প এবং একটি মানসম্মত ভোটদান কক্ষ ও সঠিক নির্দেশিকা ফলক ইত্যাদি—দ্বারা সুসজ্জিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কমিশন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEOs) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEOs) নির্দেশ দিয়েছে যেন তাঁরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী র্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই র্যাম্পের ঢাল বা গ্রেডিয়েন্ট যেন পূর্ত দফতরের (DePWD) জারি করা বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী ১:১২-এর বেশি না হয়। এছাড়া, তাঁদের বলা হয়েছে যেন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিজেদের পালা আসার অপেক্ষায় থাকাকালীন ভোটাররা মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সেখানে বসার জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়।
ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রের প্রবেশপথের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন শুধুমাত্র 'বন্ধ' (switch off) অবস্থায় রাখার অনুমতি থাকবে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে ভোটারকে অবশ্যই তাঁর মোবাইল ফোনটি (বন্ধ অবস্থায়) সেখানে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকের নিকট জমা দিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক তখন ভোটারকে একটি পূর্ব-নম্বরযুক্ত টোকেন দেবেন। ভোট দেওয়ার পরে ভোটার সেই টোকেনটি ফেরত দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনটি সংগ্রহ করে নেবেন। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের সীমানার মধ্যে ফোনটি চালু করা যাবে না। বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবেদনশীলতা বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, স্বেচ্ছাসেবকের অপ্রতুলতা কিংবা অন্য কোনো কারণে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে এই সুবিধাটি পাওয়া নাও যেতে পারে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.