
Haunted Places: পশ্চিমবঙ্গের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে এমন কিছু জায়গা, যেগুলির নাম শুনলেই স্থানীয় মানুষজন মাথা নাড়েন, 'ওখানে সন্ধ্যার পর যাবেন না।' ভূতের প্রমাণ নেই, কিন্তু ভয়ের কারণ ঠিকই আছে। বাঁকুড়া, বীরভূম ও বর্ধমানের তিনটি সবচেয়ে চর্চিত জায়গা এমনই।
আসল ইতিহাস:
বাঁকুড়া শহর থেকে ১২ কিমি দূরে জঙ্গলের মধ্যে এই গ্রাম। ১৯৮০-৯০ সালের দিকে এখানে প্রায় ২০০-৩০০ ঘর মানুষ থাকত। মূল জীবিকা ছিল চাষ আর বনজ সম্পদ। আশির দশকে লক্ষ্মণ বাউরি নামে এক ব্যক্তি সাহস করে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। তাঁর দেখাদেখি ফিরে আসে আরও ১৫টি পরিবার। কিন্তু বছর দশেক আগের এক মর্মান্তিক শিশুহত্যার ঘটনা ফের ফিরিয়ে আনে সেই পুরনো আতঙ্কের অভিশাপ। রাতারাতি খাঁ খাঁ হয়ে যায় গোটা গ্রাম। আজ পুরো গ্রামে বাস কেবল লক্ষ্মণ বাউরি ও তাঁর পরিবারের।
একসময় আস্তে আস্তে সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এখন পুরো গ্রাম পরিত্যক্ত। ভাঙা বাড়ি, জঙ্গল আর নিস্তব্ধতা।
লোককথা কী বলে?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতের বেলা এখানে আলো জ্বলে-নেভে, কারও হাঁটার শব্দ পাওয়া যায়। যারা রাতে জঙ্গলে কাঠ কাটতে গেছে তারা নাকি, 'কে ওখানে' ডাক শুনেছে।
সত্যিটা:
সরকারি বা পুলিশের কাছে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর রেকর্ড নেই। গ্রাম ফাঁকা হওয়ার আসল কারণ অর্থনৈতিক। কিন্তু রাতের বেলা জঙ্গল + পরিত্যক্ত বাড়ি = স্বাভাবিক ভাবেই ভয় লাগে। তাই লোকে যায় না।
আসল ইতিহাস:
বোলপুর থেকে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় পড়ে কঙ্কালীতলা। এটা ৫১ সতীপীঠের একটা। মন্দিরের পাশেই বিশাল শ্মশান। প্রতিদিন এখানে দাহকার্য হয়। রাস্তার দু'ধারে ঘন জঙ্গল আর ফাঁকা মাঠ। কোপাই নদীর পাড় সংলগ্ন পুরানো শ্মশান ও পরিত্যক্ত রাস্তা। রাত বাড়লেই নাকি সেই রাস্তায় অস্পষ্ট ছায়াশরীর ঘুরে বেড়ায়। সেই অদ্ভুত দর্শন ছায়া এতটাই ভয়াল যে দেখলে শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস এখানে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। গভীর রাতে নাকি ভেসে আসে নূপুরের ঝিনিঝিনি শব্দ।
লোককথা কী বলে?
সবচেয়ে ভাইরাল গল্প। বলা হয় রাত ১২টার পর এই রাস্তা দিয়ে গেলে পেছনের সিটে কেউ বসে। অনেকে বলে সাদা শাড়ি পরা মহিলাকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। টোটো-বাস ড্রাইভাররা নাকি প্যাসেঞ্জার তুলেছে, পরে দেখেছে কেউ নেই।
সত্যিটা:
রাস্তাটা সত্যিই খুব নির্জন। দু'পাশে জঙ্গল, লোকালয় নেই, আলোও কম। রাতে দুর্ঘটনা ঘটার রেকর্ড আছে। পুলিশও রাতের বেলা একা যেতে বারণ করে। ভূতের কোনও প্রমাণ নেই। ভয়ের আসল কারণ নির্জনতা + শ্মশান।
আসল ইতিহাস:
বর্ধমান থেকে ২০ কিমি দূরে বেগমপুর গ্রাম। এখানে ৩০০ বছরের পুরনো একটা জমিদার বাড়ি আছে। একসময় এখানে জমিদারি চলত। জমিদারি প্রথা ওঠার পর বাড়ির মালিকরা কলকাতায় চলে যান। তারপর থেকে বাড়িটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। এখন এটা সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। বেগমপুর এবং কালনার পুরানো নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ ঘিরে আবর্তিত হয় এক অন্য রোমাঞ্চ। শতবর্ষ প্রাচীন এই পরিত্যক্ত ইমারতগুলিতে একসময় অত্যাচারিত প্রজাদের রক্ত ঝরেছিল। স্থানীয়দের দাবি, অমাবস্যার রাতে কুঠিরের জীর্ণ দেওয়াল থেকে নাকি আর্তনাদ ভেসে আসে। ভারী অন্ধকারে ভাসতে থাকে কান্নার শব্দ। বাতাসে জেগে ওঠে ব্রিটিশ আমলের এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা। কেউ কেউ নাকি দূর থেকেও দেখতে পান এইসব অশরীরী অবয়ব।
লোককথা কী বলে?
গ্রামের লোক বলে, অমাবস্যার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে নাকি পায়ের শব্দ, গানের আওয়াজ আর ঝাড়বাতি নড়ার শব্দ আসে। কেউ কেউ বলে জমিদার গিন্নির আত্মা এখনও বাড়ি পাহারা দেয়।
সত্যিটা:
বাড়িটা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বা সরকারের হাতে নেই। পুরোটাই ভগ্নপ্রায়। ভেতরে ঢোকা খুব বিপদজনক কারণ ছাদ-দেওয়াল যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। পুলিশও নিষেধ করে। তবে ভূতের কোনও অফিসিয়াল রেকর্ড এখানে নেই। তাই অ্যাডভেঞ্চারের নামে রাতে যাবেন না। দিনের বেলায় ইতিহাস জানতে গেলে যান। আর স্থানীয় মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করুন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.