kuldhara Village Rajasthan: রাজস্থানের থর মরুভূমির বুকে পড়ে আছে একটা মৃত গ্রাম—কুলধারা। ১৮২৫ সালের এক রাতে ৮৪টা গ্রামের ১৫০০ মানুষ ভ্যানিশ। বাড়িঘর, মন্দির, কুয়ো সব ফাঁকা। শুধু যাওয়ার আগে বলে গেছিল, ‘এই মাটিতে কেউ আর বসতি গড়তে পারবে না’। সেই অভিশাপে ১৮০ বছরেও কেউ ১ রাত থাকতে পারেনি। গাইডরা সন্ধ্যার পর পালায়। ট্যুরিস্টরা দিনের বেলাও গা ছমছমে ফিল পায়।

Haunted Village: অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন? ভূতের গল্প শুনলে রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়? তাহলে রাজস্থানের কুলধারা আপনার জন্য। জয়সলমীর থেকে মাত্র ১৮ কিমি। ট্যাক্সি নিয়ে ৩০ মিনিট। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার পর সরকারি গেট বন্ধ। কারণ? রাত নামলেই নাকি ওরা ফিরে আসে। ভাঙা বাড়ির ফাঁক দিয়ে কান্না, পায়ের শব্দ, ছায়ামূর্তি। দিল্লির প্যারানরমাল টিম মেশিন নিয়ে রাত কাটাতে গিয়ে ভোরের আগে পালিয়েছে। ১৮০ বছর ধরে একটা গ্রাম ফাঁকা। কেন? চলুন থরের বালির নিচে চাপা পড়া সেই রাতের গল্প শুনি। ১ রাতে ১৫০০ মানুষ গায়েব: কুলধারার অভিশাপের আসল গল্প: সময়টা ১৮২৫ সাল। জয়সলমীর রাজ্যের দেওয়ান তখন সালিম সিং। নিষ্ঠুর, লম্পট, ক্ষমতালোভী। কুলধারা ছিল পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের গ্রাম। ১২৯১ সালে ওরা এই গ্রাম পত্তন করে। মরুভূমির মাঝে চাষবাস, ব্যবসা করে সোনার গ্রাম বানিয়েছিল। জলের জন্য এমন টেকনিক ছিল যে থরেও ফসল ফলত। গন্ডগোল শুরু: সালিম সিং-এর নজর পড়ে গ্রামের মোড়লের সুন্দরী মেয়ের উপর। বিয়ে করতে চায়। হুমকি দেয়, ‘মেয়ে না দিলে গ্রামে খাজনা ৩ গুণ, না দিলে জোর করে তুলে নেব’। মোড়লরা কী করল: ৮৪টা পালিওয়াল গ্রামের মোড়লরা রাতারাতি পঞ্চায়েত বসল। ইজ্জত বাঁচাতে একটাই রাস্তা—গ্রাম ছাড়ো। ১৮২৫ সালের এক অমাবস্যার রাতে কুলধারা সহ ৮৪টা গ্রামের সবাই গরু, বাসন, জিনিস নিয়ে উধাও। কোথায় গেল? আজও কেউ জানে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

যাওয়ার আগে অভিশাপ

গ্রাম ছাড়ার আগে ওরা অভিশাপ দিয়ে যায়—‘আজ থেকে এই মাটিতে কেউ ঘর বাঁধতে পারবে না। বাঁধলেই মৃত্যু।’ সকালে সালিম সিং সেনা নিয়ে এসে দেখে ধু ধু গ্রাম। একটা মানুষ নেই। একটা কুকুর নেই।

১৮০ বছরেও কেউ থাকতে পারেনি কেন? 

সরকারের মানা: 

১. গা ছমছমে ঘটনা: লোকালরা বলে রাতে মহিলাদের কান্না, চুড়ির শব্দ, পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। ভাঙা বাড়িতে ছায়া নড়ে। অনেক ট্যুরিস্ট দিনের বেলাও অসুস্থ বোধ করে, মাথা ঘোরে।

২. প্যারানরমাল টিমের রিপোর্ট: দিল্লির ‘প্যারানরমাল সোসাইটি’ রাত কাটাতে গিয়ে EMF মিটারে অদ্ভুত রিডিং পায়। ক্যামেরায় সাদা অবয়ব। টিম মেম্বারদের গায়ে আঁচড়ের দাগ। ভোর ৪টায় ওরা গ্রাম ছেড়ে পালায়।

৩. সরকারি নিষেধ: ASI মানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কুলধারাকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার পর ঢোকা মানা। গেটে তালা পড়ে। গার্ডও থাকে না। কারণ সরকারও রিস্ক নেয় না।

৪. বসতি গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ: ২০১৩ সালে এক দল লোক থাকার চেষ্টা করেছিল। পরপর দুর্ঘটনা, অসুস্থতা। ১ সপ্তাহে পালিয়ে আসে। আজও কুলধারার মাটিতে নতুন ইট পড়ে না।

ভূত না বিজ্ঞান? 

কুলধারা নিয়ে ৩টে থিওরি: 

থিওরি ১: ভূমিকম্প অনেকে বলে ১৮২৫ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল। কুয়োর জল তলায় নেমে যায়। চাষ অসম্ভব হয়। তাই ওরা বাধ্য হয়ে চলে যায়। কিন্তু প্রশ্ন: ১ রাতে ৮৪টা গ্রাম ফাঁকা? জিনিসপত্র নিয়ে? ভূমিকম্পে পালালে কিছু তো পড়ে থাকত।

থিওরি ২: জলকষ্ট ও মারোয়াড়ীদের অত্যাচার সালিম সিং-এর অত্যাচার + খরা। জল নেই, খাজনা বেশি। পালিওয়ালরা রাতারাতি অন্য রাজ্যে চলে যায়। যাওয়ার আগে গুজব ছড়ায় ‘অভিশাপ’ যাতে সালিম সিং আর কাউকে বসাতে না পারে। লজিক আছে।

থিওরি ৩: প্যারানরমাল এনার্জি ১৫০০ মানুষের কষ্ট, কান্না, রাগ—এই নেগেটিভ এনার্জি মাটিতে আটকে আছে। তাই রাতে অ্যাক্টিভিটি হয়। বিজ্ঞান মানবে না, কিন্তু লোকালরা এটাই মানে।

কুলধারা যাবেন? 

টিকিট, সময়, কী দেখবেন, সাবধান! কোথায়: জয়সলমীর থেকে ১৮ কিমি। সাম ডেজার্ট যাওয়ার রাস্তায়। কখন খোলা: সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। ৬টার পর এন্ট্রি বন্ধ। টিকিট: পার হেড ৫০ টাকা। গাড়ি ২০০ টাকা। গাইড ৩০০ টাকা। গাইড নেবেন, গল্প শুনতে গায়ে কাঁটা দেবে। কী দেখবেন: ৪০০ বছরের পুরনো ভাঙা বাড়ি, মন্দির, কুয়ো, গ্রামের নকশা। মরুভূমির মাঝে নিখুঁত প্ল্যানিং দেখে অবাক হবেন। 

সাবধান: 

১. বিকেল ৫টার পর না ঢোকাই ভালো। আলো কমে, গা ছমছম করে। 

২. বাচ্চা, দুর্বল হার্টের লোক না। 

৩. ভাঙা বাড়িতে উঠবেন না। 

৪. কিছু কুড়িয়ে আনবেন না। লোকাল বিশ্বাস—অভিশাপ লাগবে। 

৫. মজা করেও ‘রাতে থাকব’ বলবেন না।

বেস্ট টাইম: অক্টোবর থেকে মার্চ। দিনে গরম কম। বিকেল ৪টায় যান। সানসেট দেখে ৫:৩০টায় বেরিয়ে আসুন।

কুলধারা শুধু ভূতের গ্রাম না। এটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৫০০ মানুষের নীরব প্রতিবাদের স্মৃতি। ইজ্জত বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়েছিল ওরা। ভূত আছে কি নেই, জানি না। কিন্তু ওই ফাঁকা বাড়িগুলোর সামনে দাঁড়ালে বুকটা হু হু করে। কুলধারার ভৌতিক কাহিনী লোককথা ও ট্যুরিস্টদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই। ASI-এর নিয়ম মেনে চলুন। সন্ধ্যার পর এলাকায় প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয়। অন্ধবিশ্বাস ছড়ানো উদ্দেশ্য নয়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।