Anti-Social Bill: "মানুষ গুন্ডামিতে ক্লান্ত", নতুন বিলের পক্ষে সওয়াল মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

Published : Jul 13, 2026, 11:36 AM IST
DILIP GHOSH West Bengal Minister Dilip Ghosh Defends New Anti Social Activities Bill

সংক্ষিপ্ত

Dilip on Anti-Social Bill: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট 'গুন্ডামি' রুখতে নতুন বিল আনা হয়েছে, জানালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ এই অত্যাচারে ক্লান্ত। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সোমবার রাজ্যের সদ্য পাশ হওয়া 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল'-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তিদের 'গুন্ডামি' এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতেই এই নতুন আইন আনা হয়েছে।

গুন্ডা আইনের পক্ষে দিলীপের সওয়াল

ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যের মানুষ হিংসা ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তিতিবিরক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই নতুন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বছরের পর বছর ধরে এই গুন্ডামি দেখতে দেখতে ক্লান্ত ও বিরক্ত। বিশেষ করে যখন এই দুষ্কৃতীদের বেশিরভাগেরই রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। এই উপদ্রব বন্ধ করার জন্যই আমাদের একটি নতুন আইন আনতে হয়েছে এবং এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে... সাধারণ মানুষ যারা এখনও ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না, তাদের এগিয়ে এসে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইন তার নিজের পথে চলবে।"

গুন্ডা দমন আইন

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত জুন মাসে 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬' পাশ হয়। বিলের পক্ষে ১৭৬ জন এবং বিপক্ষে ৪১ জন বিধায়ক ভোট দেন। এই বিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-কে দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের আইন চালু রয়েছে। শুভেন্দু বলেন, "এই আইন কার্যকর করার আগে আমি বলতে চাই যে আগের সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলার মানুষ আপনাদের ইভিএমের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনারা বিরোধী দল গঠন করতে পেরেছেন, কিন্তু তা শক্তিশালী নয়। এই বিলটি মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের মতো বিভিন্ন রাজ্যে নানা নামে ইতিমধ্যেই চালু আছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা দেখেছি কীভাবে সিপিআই(এম) বাংলার রাজনীতিতে 'গুন্ডা সংস্কৃতি' চালু করেছিল। ২০০১ সালে, তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে অন্যদের ক্ষমতায় আসা আটকাতে 'হার্মাদ' বাহিনী নামিয়েছিল।"

আইনের অপব্যবহার হবে না: মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে সরকার এই আইনের বিধানগুলির অপব্যবহার করবে না। শুধুমাত্র জননিরাপত্তা রক্ষা এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি রোধ করতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হল জননিরাপত্তা জোরদার করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠিত অসামাজিক কার্যকলাপের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা। বিল অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কার্যকলাপ যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে, জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করে, জীবন ও সম্পত্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, অথবা বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাগত কাজকর্মে বাধা দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। বেআইনি খনি, অবৈধ বালি উত্তোলন এবং বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বেআইনি কার্যকলাপকেও অসামাজিক কার্যকলাপের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

এই বিলের সবচেয়ে বিতর্কিত বিধানগুলির মধ্যে একটি হল 'প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন' বা নিবর্তনমূলক আটক। যদি রাজ্য সরকার বা কোনও অনুমোদিত আধিকারিক মনে করেন যে কোনও ব্যক্তির কার্যকলাপ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা যেতে পারে। জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনারদেরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিলটিতে বলা হয়েছে যে 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩'-এ যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে প্রতিটি অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable) এবং জামিন-অযোগ্য (non-bailable) বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারবে এবং জামিন পাওয়া সহজ হবে না।

বিল অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটকের কারণ জানাতে হবে এবং তাকে নিজের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। তবে, জনস্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করার ক্ষমতা রাখবে।

যদি কোনও ব্যক্তি আটকাদেশ এড়াতে পালিয়ে যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রশাসন আদালতের মাধ্যমে ঘোষণা জারি করতে পারে, ওই ব্যক্তির সম্পত্তি সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারে এবং তাকে কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।

'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬'-এর উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে সরকার জানিয়েছে যে সংগঠিত অসামাজিক কার্যকলাপের মোকাবিলায় বিদ্যমান আইন অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় একটি নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজন অনুভব করা হয়েছে।

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Bardhakya Bhata: বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার ১৫০০ টাকা কবে থেকে দেবে সরকার? জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর! যোগ্য সকলেই পাবেন ৩০০০ টাকা