
এবার উত্তরবঙ্গ আরও একটি ফুটবল স্টেডিয়াম পেতে চলেছে। কার্শিয়াঙে হবে এই স্টেডিয়াম। জানা গিয়েছে, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এই পাহাড়ি শহরটির সংলগ্ন মন্টেভিওট চা বাগানে খেলাধুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। টেলিগ্রাফ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ অনিত থাপা জানিয়েছেন, প্রায় তিন একর জমিতে একটি স্টেডিয়াম তৈরির জন্য চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গিয়েছে। প্রকল্পটি শীঘ্রই চূড়ান্ত হবে।
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কার্শিয়াং একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। ‘সাদা অর্কিডের দেশ’ নামে পরিচিত এই পাহাড়ি শহরটি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত চা বাগান দ্বারা পরিবেষ্টিত। বর্তমানে কার্শিয়াঙের আশপাশে গোর্খা স্টেডিয়াম এবং মংপু পাবলিক গ্রাউন্ডর মতো কিছু খেলার মাঠ রয়েছে। শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে একটি পরিচিত স্টেডিয়াম হলেও, কার্শিয়াঙের জন্য একটি আধুনিক স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। কার্শিয়াং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শহরে একটি স্টেডিয়াম তৈরি হোক, এটি এখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি। পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালে এনিয়ে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কার্শিয়াংয়ের কাছে অল ইন্ডিয়া রেডিও স্টেশনের নীচে জমিও চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন জিটিএ-র আমলে আরও একবার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই উদ্যোগটিও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের একটি দল কার্শিয়াং স্টেডিয়াম নির্মাণ কমিটি গঠন করে এবং ডিসেম্বরে ক্রীড়া পরিকাঠামো নির্মাণের দাবিতে ধারাবাহিক প্রচার শুরু করে। এর মধ্যে ছিল স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান, একটি বিশাল মিছিল এবং জিটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া।
ভারতীয় মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান কোচ এবং কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা ক্রিসপিন ছেত্রীও এই প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। কার্শিয়াং স্টেডিয়াম নির্মাণ কমিটি সম্পাদক এবং কেএফএ-র সম্পাদক সুদীপ রায় জানিয়েছেন, তাঁরা সম্প্রতি অনিত থাপার সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সুদীপ বলেন, 'আলোচনার সময় আমরা জানতে পেরেছি যে প্রস্তাবিত স্থানটি মন্টেভিওট চা বাগানে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি যে শহরের ক্রীড়াপ্রেমীদের এই দীর্ঘদিনের দাবিটি অবশেষে পূরণ হবে।'