
Ganga Sagar Mela Controversy: গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা না করা নিয়ে সুকান্ত মজুমদারকে পাল্টা জবাব মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। পূণ্যার্থীর সংখ্যা নিয়েও বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ অরূপের। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও গঙ্গাসাগরকে কেন্দ্রের সরকার জাতীয় মেলা ঘোষণা করছে না বলে অভিযোগ করে আসছে রাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নানে এসে বিজেপি নেতা তথা সংসদ সুকান্ত মজুমদার এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঠাঁই পায় না।
জাতীয়ভাবে মেলা করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে যুক্ত করতে হবে। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে কোনও লাভ হবে না। বিজেপি সাংসদের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করার পাশাপাশি কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছরেও রাজ্যে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারও আসবে না। আর তারা সেটা করবেও না। কেন্দ্রীয় সরকার না করলেও মানুষই একদিন গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় মেলা বলে ঘোষণা করবে।
পাশাপাশি এদিন সুকান্ত মজুমদার গঙ্গাসাগরের আগত পূণ্যার্থীর সংখ্যা নিয়েও সরকারকে কটাক্ষ করেছেন। সোমবার দুপুর তিনটে পর্যন্ত গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নানে ৪৫ লক্ষ মানুষ এসেছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কিন্তু সুকান্ত মজুমদার সেটাকে কটাক্ষ করে বলেন, ৩'৫ হাজার মানুষ এখনও পর্যন্ত লঞ্চের টিকিট কেটে সাগরে এসেছেন বলে হিসেব বলছে। তাহলে বাকি সাড়ে চুয়াল্লিশ লক্ষ মানুষ কি তাহলে উড়ে উড়ে এসেছেন? এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।
এদিন সেই নিয়েও প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘’সবার সব প্রশ্নের উত্তর দেব না। আজ দুপুর ৩টে পর্যন্ত ৬০ লক্ষ পূণ্যার্থী এসেছেন। প্রত্যাশা করছি আরও লক্ষ-লক্ষ মানুষ আসবেন। এক-দেড় কোটি মানুষ আসবেন। তাঁরা যাতে সুষ্ঠুভাবে স্নান করে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারেন সেই পরিশ্রমই আমরা দিন-রাত্রি করছি। এটা একটা মেলা। ধর্মীয় স্থানে রাজনীতি করার জায়গা নয়। রাজনীতি করলে বিজেপি কুম্ভ মেলায় যেভাবে করেছ, সেভাবে করতাম। আমরা ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেলাই না। আমরা ধর্মীয় স্থানে রাজনীতি করি না। আমরা সব ধর্মকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করি। আর সেই ক্ষমতা আমরা রাখি।’'
প্রসঙ্গত, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা করতে ছাড়েননি সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে গিয়ে তিনি বলেন, ‘’বাংলায় অন্ধকার নেমে এসেছে। সংক্রান্তিতে পূর্ণ স্নানের মধ্য দিয়েই রাতের অন্ধকার ছোট হবে দিন বড় হবে। এই সরকারের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আবার নতুন আলো ফুটবে ।''
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।