
প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। জানতে পারার পর স্ত্রীকে ওই যুবকের হাতে ‘তুলে’ দিয়েছিলেন। ওই যুবকের সঙ্গে থাকতেও শুরু করেন স্ত্রী। আর এরপরই ঘটল ভয়ানক ঘটনা। ওই যুবকের বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। মৃত মহিলার নাম সোমা রায় (৩৫)। অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায় ঘটনার পর অস্ত্র হাতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের বক্তব্য, স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন ধৃত ব্যক্তি।
শ্রীকান্তের বাড়ি ধূপগুড়ি রায়পাড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। বছর ১৫ আগে সোমার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিবেশী যুবক চিরঞ্জিত রায়ের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোমা। বিষয়টি জানতে পারেন শ্রীকান্ত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। দিন সাতেক আগে গ্রামে সালিশি সভা বসে। আর সেখানেই নিজের স্ত্রীকে চিরঞ্জিতের হাতে ‘তুলে’ দেন শ্রীকান্ত। এরপর থেকেই চিরঞ্জিত ও সোমা এক বাড়িতেই থাকা শুরু করেন। শনিবার সকালবেলা ধারাল অস্ত্র নিয়ে আচমকা চিরঞ্জিতের বাড়িতে পৌঁছে যান শ্রীকান্ত। অভিযোগ, সেখানে সোমাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। সোমার চিৎকার শুনে চিরঞ্জিতের মা ছুটে এসে বাধা যান। এরপর তাঁর দিকেও অস্ত্র নিয়ে শ্রীকান্ত তেড়ে যান। সোমা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খানিক পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর শ্রীকান্ত খালি পায়ে অস্ত্র হাতে রক্তমাখা অবস্থায় এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বড় রাস্তায় যান। তারপর টোটোতে চেপে ধূপগুড়ি থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।