
আর মাস দুয়েক পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। যা নিয়ে রোজই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এবার অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের লক্ষ্যে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা বিজেপির। হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর আবেদন, রাজ্যের ৪২ হাজার বুথে আদৌ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নতুন করে সমীক্ষা করুক জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নতুন করে সমীক্ষা করানোর আর্জি জানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের সংবেদনশীল বুথগুলিতে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি ও নিরপেক্ষ সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে চায় তারা।
মঙ্গলবার আদালতে শমীক ভট্টাচাৰ্য জানান, সব বুথে ১০০ শতাংশ সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সার্ভে করতে হবে। যে কম্পানি আগে সার্ভে করছিল তারা চলে গিয়েছে। নতুন করে সার্ভের জন্য এজেন্সি নিয়োগ করতে হবে কমিশন এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত আছে। বুথের সমীক্ষা নিয়ে ম্যাকেনটোক্স বার্ন ৬’মাস আগে ছেড়ে চলে গিয়েছে। রাজ্য যদি নতুন কোন এজেন্সিকে না নিয়ে আসতে পারে তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন এজেন্সি কে নিয়ে আসুক। কেনও তারা চলে গেল সেটা জানা দরকার। সব বুথে বুথ পর্যবেক্ষক রেখে পর্যবেক্ষণ করাতে হবে।
অতীতে একাধিক ভোটে হিংসা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই মামলা। এনিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ' পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট নিরামিষ হয় না। পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে ভোট হয় সবাই জানে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তো বাইরে থাকে কিন্তু ভিতরে কীভাবে অত্যাচার করা হয়। কীভাবে ক্যামেরা বন্ধ করা হয়। ক্যামেরায় ময়দা লাগিয়ে দেওয়া হয়, ক্যামেরায় কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়, ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়। এগুলো আমরা দেখেছি। বিরোধী দলের এজেন্টদের অবস্থা কী হয়। এনিয়ে তো প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে আমাদের কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিতের বুথের মধ্য়ে ঢুকে ভাঙচুর করা হল, তাঁকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হল। কোথাও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না। মধ্য কলকাতা একটা জায়গায় বোমা ফেটে পা উড়ে গেল, অথচ রাজ্য নির্বাচন কমিশন বললেন চকলেট বোমের মতো কিছু একটা বোম ফেটেছে।'
বিহার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে শমীক বলেন, 'বিহারে তো এতবড় নির্বাচন হয়ে গেল। অনেকে ভোট চুরির কথা বলেছিলেন। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে কি কোনও আরজেডি নেতার বাড়ি জেসিবি দিয়ে ভাঙা হয়েছে। কাউকে বিহার ছাড়তে হয়েছে। কোনও কংগ্রেস অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও মহিলার শ্লীলতাহানি হয়েছে? কোনও প্রাণহানি হয়েছে? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলতেন বিহার , উত্তরপ্রদেশ দেখুন আমাদের দিকে আঙুল তোলার আগে। বিহারে ও উত্তরপ্রদেশে কীভাবে ভোট হয় দেখতে বলত সিপিআইএম। এখন বিহার, উত্তরপ্রদেশের ভোট সংস্কৃতি বদলে গেল। আর এখন অন্যরা পশ্চিমবঙ্গ কে দেখিয়ে বলে কীভাবে সন্ত্রাসমূলক ভোট হয় দেখুন। আমাদের এসআইআর-র হেল্পডেস্কগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে। বিএলও-দের বাধ্য করা হচ্ছে মিথ্য়া তথ্য আপলোড করার জন্য। ফিরহাদ হাকিম তো দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলার সঙ্গে ভারতের অন্য প্রদেশের পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১১টি রাজ্যে এসআইআর চলেছে। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কাগজ ছিনতাই করার সময়ও এসআইআর-র কথা বলেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এখানে যদি ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে অন্য কোনও ব্যবস্থা করতে হবে।'