গঙ্গাসাগর মেলার আগে রাজ্যে শীতের দাপট চরমে। মকর সংক্রান্তির ঠিক আগেই কনকনে ঠান্ডায় কার্যত কাঁপছে বাংলা। চলতি মরশুমে প্রথমবার ১০ ডিগ্রির ঘরে নামল কলকাতার পারদ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় পতন বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬.৭ ডিগ্রি কম। ফলে দিনভরই শীতের কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে মহানগরে।
25
মরশুমের শীতলতম দিন
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দিনভরই শীতের কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে মহানগরে। আজ মরশুমের সবচেয়ে শীতলতম দিন। এদিকে গঙ্গাসাগর মেলার আগেই সাগরদ্বীপে কুয়াশার দাপট বাড়ছে। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে নেমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির আশেপাশে থাকায় সারাদিনই ঠান্ডা অনুভূত হবে।
35
কুয়াশার কারণে কমছে দৃশ্যমানতা
প্রশাসনের তরফে সাগরগামী পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে ভেসেল পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। মেলায় যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত গরম পোশাক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও ভোরে কুয়াশার প্রভাব বজায় থাকবে। ঘন কুয়াশার জেরে রেল, বিমান ও মেট্রো পরিষেবাতেও সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং চলছে। দক্ষিণবঙ্গে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কম থাকতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ জেলায় জারি রয়েছে বিশেষ শীতের সতর্কতা। আপাতত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে এইরকম শীতের আমেজ থাকবে অব্যাহত।
55
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও শীতের প্রভাব তীব্র। দার্জিলিঙে তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার ও মালদায় ঘন কুয়াশার হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। রাজ্যজুড়ে আগামী কয়েক দিন শীতের দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।