West Bengal Weather Update: প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট 'সুপার এল নিনো'-র প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ তীব্র তাপপ্রবাহ ও বর্ষার ঘাটতির সম্মুখীন। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে খরা পরিস্থিতি ও কৃষি সংকট দেখা দিয়েছে, যখন উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বর্ষণ হচ্ছে।
West Bengal Weather Update: ১৮ জুন, ২০২৬ তারিখে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট তীব্র 'সুপার এল নিনো' (Super El Niño)-র সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ও কৃষিক্ষেত্রে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাজ্যে মূলত স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তীব্র গরমের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।
210
বর্ষার খামখেয়ালিপনা
১. বর্ষার খামখেয়ালিপনা ও কম বৃষ্টিপাত (Weak Monsoon)
ঘাটতির আশঙ্কা: আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ভারতে সামগ্রিক মৌসুমী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম (দীর্ঘমেয়াদী গড় বা LPA-এর ৯০ শতাংশ) হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে।
দেরিতে আগমন: উত্তরবঙ্গে বর্ষা কিছুটা সক্রিয় হলেও, দক্ষিণবঙ্গে এল নিনোর কারণে মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করতে দেরি হচ্ছে। বৃষ্টির এই দীর্ঘ ঘাটতি নদী, নালা ও জলাশয়গুলিকে শুকিয়ে ফেলছে।
310
তীব্র তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি
২. তীব্র তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি (Severe Heatwaves)
রিয়েল ফিল বা অস্বস্তি সূচক: এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গেছে। বর্তমানে বাতাসে অতি মাত্রায় জলীয় বাষ্প জমা হওয়ায় পারদ ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও, মানুষের শরীরে অস্বস্তি বা 'রিয়েল ফিল' ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী গরম: দক্ষিণ ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে (যেমন: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর) স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।
৩. গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে সংকট (Agricultural Distress)
খারিফ চাষে ধীর গতি: এল নিনোর ছায়া সবচেয়ে বেশি পড়েছে আমন ধান এবং অন্যান্য খারিফ শস্য চাষের ওপর। জুনের মাঝামাঝি এসেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষের কাজ শুরু করতে সমস্যা হচ্ছে।
510
ভূগর্ভস্থ জলস্তর হ্রাস
ভূগর্ভস্থ জলস্তর হ্রাস: পশ্চিম মেদিনীপুর (যেমন: গড়বেতা ব্লক), বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিপ্রধান গ্রামে ইতিমধ্যেই পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মাটির তলার জলের স্তর (Groundwater Level) আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। খেত ফেটে চৌচির হওয়ায় চাষিরা পাম্পের সাহায্যেও সেচের জল পাচ্ছেন না।
610
উত্তরবঙ্গে বিপরীত ছবি
৪. উত্তরবঙ্গে বিপরীত ছবি (Regional Disparity)
এল নিনোর প্রভাবে যখন দক্ষিণ ও পশ্চিমের জেলাগুলি খরায় ভুগছে, তখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে (দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার) কিন্তু বিপরীত চিত্র। সেখানে মৌসুমী বায়ু আটকে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরে অতি ভারী বর্ষণ ও ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
710
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের চরিত্র বদল
৫. বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের চরিত্র বদল: এল নিনো সচল থাকায় বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপ বা সাইক্লোনগুলি তৈরি হচ্ছে, সেগুলি তাদের স্বাভাবিক গতিপথ হারাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় জেলাগুলিতে একটানা বৃষ্টির পরিবর্তে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখী ঝড় বেশি হচ্ছে।
810
এল নিনোর এই ক্ষতিকর প্রভাব
আশার আলো: আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD)-এর মতো অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি যদি অনুকূল হয়, তবে জুলাই বা আগস্টের দিকে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্য কৃষি দফতর ইতিমধ্যেই কৃষকদের বিকল্প কম জল লাগা চাষ এবং জল সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছে।
910
তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি
কলকাতা ও সংলগ্ন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির পরিস্থিতি কলকাতায় গত কয়েকদিন ধরে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দুপুরের পর কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, এবং হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
1010
কালবৈশাখী
সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহান্তে অর্থাৎ ২০ জুনের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে, যা গরমের দাপট অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.