
Yuva Sathi Prakalpa: আজ, শুক্রবারই শেষ হল রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। গতকাল জেলাশাসকদের বৈঠকে এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee)। এবার আবেদনকারীদের প্রশ্ন কীভাবে কোথায় ঢুকবে যুবসাথীর টাকা। অনেকেই জানতে চাইছেন ব্য়াঙ্কে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি লিঙ্ক করতে হবে কি? কোন ধরনের ব্য়াঙ্কে টাকা ঢুকবে? যুবসাথীর নিয়মানুযায়ী, টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। গত ৭ মার্চ থেকে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনকারীদের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া আজকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাদের টাকা পাওয়ার কথা তারা পাবেন। ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারী তার যে ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্টের কথা উল্লেখ করেছেন সেখানেই জমা পড়বে প্রকল্পের টাকা। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। সেই শর্তটি বলার আগে দেখে নেওয়া যাকে আরও একটি বড় কৌতূহল নিয়ে।
অনুদানের টাকা কোন ধরনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি হলো এই অনুদান পাওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে 'ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার' (DBT),সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক কি না। অনেকেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানেন না বলেই উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগে ঠিক ছিল যুবসাথী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পয়লা এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই গত ৭ মার্চ ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ঘোষণা করে, খুব দ্রুত 'যুবসাথী' প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা জমা পড়তে শুরু করেছে বলে জানা যায়। তবে এখনও অনেকেই দাবি করছেন যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেনন মুখ্যমন্ত্রী।
'যুবসাথী' প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি আবেদনকারীর সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হবে, যার তথ্য তিনি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় উল্লেখ করেছেন। তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জড়িত রয়েছে। যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে, সেটির সঙ্গে আবেদনকারীর আধার নম্বর সংযুক্ত থাকতে হবে। অনেকের ধারণা ছিল, গ্যাস ভর্তুকি বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের মতো এখানেও ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) বা আলাদা করে আধার সিডিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে আলাদা করে ডিবিটি লিঙ্ক করার প্রয়োজন নেই। ট্রেজারি থেকে সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই অনুদানের টাকা পাঠানো হবে।
আধার সিডিং বলতে বোঝায়, কোনও নির্দিষ্ট পরিষেবা বা ডেটাবেসের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা। যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, গ্যাস সংযোগ, মোবাইল নম্বর বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই ওই সুবিধার উপভোক্তা কি না, তা সহজে যাচাই করা যায়। সহজভাবে বললে, আধার লিঙ্ক মূলত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যুক্ত করা বোঝায়, আর আধার সিডিং হলো বিভিন্ন পরিষেবা বা সরকারি প্রকল্পের রেকর্ডের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করার প্রক্রিয়া। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি অনুদান বা ভর্তুকির টাকা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.