অসম জয়ের চেষ্টায় রীতিমত মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন অসমে। যেতে পারেন রাহুল গান্ধীও। জয়ের ব্য়পারে প্রায় আশাবাদী কংগ্রেস। অল ইন্ডিয়া মহিলা কংগ্রেস প্রেসিডেন্ড তথা কংগ্রেস মুখপাত্র সুস্মিতা দেব এশিয়ানেট নিউজের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন ২১এর বিধানসভা ভোটে তাঁরা ক্ষমতা দখল করবেন। সুস্মিতা দেব কংগ্রেস আগামী প্রজন্মের নেত্রী হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করছেন। 

প্রঃঅসমে ভোট লড়াইয়ে কংগ্রেসের ইস্যু কী কী?
 বেকারি আর দুর্ণীতি- গোটা অসমেই দুটি ইস্যুতেই লড়াই চালাচ্ছে কংগ্রেস। লকডাউনের পর কর্মসংস্থা একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অসমের অর্থনীতি। আমি মনে করি চাকরি আর দুর্ণীতি -এই দুটিই সমস্যার মূলে রয়েছে। আর সেই কারণে সমান্তরাল একটি ব্যবস্থা চলছে। যা প্রশাসনের কেন্দ্র থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যেক শিল্পপতি পিছনের দরজাটি বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। 

প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের অভাব কতটা বোধ করছে কংগ্রেস ?

দেখুন তরুণ গগৈ গত ১৫ বছর ধরে অসম শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ অবহায়ার মধ্যে দিয়ে শাসনকাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।আমি মনে করি তরুণ গগৈ একটি হলমার্ক। কিন্তু তাঁর কথা স্মরণ করেই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে কংগ্রেস। প্রদ্যুত বরদলুই, রিপুন বোরা, দেবব্রত সাইকিয়া- তাঁরা যথেষ্ট্ প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন। তাঁদের ওপর স্থানীয়দের আস্থা তৈরি হয়েছে। যাঁরা একটা সময় তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে ছিলেন আজ তাঁরা নতুন কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন। আমি মনে করি আধুনিক প্রজন্মের অনেক যোগ্য নেতাই রয়েছেন যাঁরা কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।  আমি মনে করি আমার আর গৌরব গগৈ-এর পর অসমে কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম প্রদুত্যুর, রিপুন দেবব্রতরা। 

এআইডিইউএফ-এর সঙ্গে জোট বাঁধায় দলের ভিরতে ও বাইরে সমালোচিত হয়ে হয়েছে। কংগ্রেস কী নিশ্চিত যে আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হবে ?
দেখুন এটা  এমন বিষয় নয়, কংগ্রেস একাই  জয়ের জন্যই জোট বেঁধেছে। বিজেপিও জোট বেঁধেই ভোটে লড়াই করছে।কিন্তু বিজেপিকে নিয়ে কেউ কোনও কথাই বলছে না। দুই তরফেই জোট হয়েছে। কিন্তু যেকোনও কারণেই হোক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কংগ্রেস- আমিও বুঝতে পারি না এটা কেন বারবার হয়। প্রথমত বিজেপি ভুলে গেছে তাজের জোট বন্ধুদের কথা- একটা সময় বিজেপিও বোরো ল্যান্ড পিপিলস ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। কিন্তু এখন বিজেপি বলছে বিপিএফ দুর্ণীতিগ্রস্ত একটি দল। এখন বিজেপি অসম গণপরিষদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। আর সেই কারণেই দুটি দলই জোটবেঁধেই ভোটে লড়াই করছে। আর সেই কারণেই কংগ্রেসের জোট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে বিজেপির জোট নিয়েও প্রশ্ন ওঠা জরুরি। 

সিএএ নিয়ে কংগ্রেস প্রাচার চালাচ্ছে, সেই বিষয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া কী? 

দেখুন, আমি আপনাকে বলছেন সিএএ একটি রাজনৈতিক ইস্যু। আপনি দেখবেন বিজেপি সর্বদা একটি রাজনৈতিক ইস্যু উত্থাপন করে যেটা মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। এখন সিএএ কোথায় ? লোকসভা নির্বাচনের আগে সিএবি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন এটি আইনে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু আইনটি এখনও লাগু করা হয়নি। এখন সিএএ নিয়ে চুপ রয়েছে বিজেপি। বাংলা নির্বাচনে প্রয়োজন অনুসারে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর আপার আসমের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বরাক উপত্যকায় নির্বাচনি প্রচারে সিএএর কথা বলা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। সিএএ এর সঙ্গে নাগরিকদের স্বার্থ জড়িয়ে নেই। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছিল। 

অসমের কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে ?গৌরব গগৈ জানিয়েছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে ইচ্ছুক নন?

আমাদের প্রথম লক্ষ্যেই হল নির্বাচনে জয়লাভ করা। এটাই প্রথম নির্বাচন যেখানে তরুণ গগৈ-এর নেতৃত্ব ছাড়াই কংগ্রেস লড়াই করবে। ২০১৬ সালেও তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কংগ্রেসকে। এই নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি। এখনই তরুণ গগৈকেই সামনে রেখে লড়াই করা হচ্ছে। প্রচারে বলা হয়েছে ১৫ বছর উপযুক্ত দক্ষতার সঙ্গেই অসমে রাজ করেছিলেন তরুণ গগৈ। যাত্রা পোস্টারে প্রদ্যুৎ বরদলুই, গৌরব দদৈ, রাকিবুলের মত প্রথম সারির নেতাদের নাম রয়েছে। নির্বাচনে জয় লভাই এখন মূল লক্ষ্য। জয় লাভের পর বিধায়করাই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন। সেই জন্য় এই বিষয় নিয়ে এখনই আলোচনার প্রয়োজন নেই। 

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আসায় কী উপকার হয়েছে অসমের

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে তাঁর মত দীর্ঘাঙ্গী নেতা যখন প্রচারে আসেন অসমের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিশ্রুত দেন তখন তা আলাদা একটা মাত্রা এনে দেয়। যখনই তিনি প্রতিশ্রুতি দেন তখনই তা আলাদা মাত্রা পায়। 

কংগ্রেস নেতৃত্ব ভাগ হয়ে গেছে। ২৩ নেতার একটি দল আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে তার প্রভাব পড়বে? 

কেউ কেউ বলেন পার্টির ভিতরে পরিবর্তন প্রয়োজন। কেই আবার বলেন অন্য কথা। আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এটা জনসমক্ষে বলার মত বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণ আমার নিজের মতামত। এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। আমি মনে করি তাঁরা আমার থেকে অনেক বড়। 


আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কতগুলি কেন্দ্র জয় পাবে কংগ্রেস? 

আমরা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমরা কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী। সরকার গঠনের মত প্রয়োজনী আসন কংগ্রেস পাবে বলেও আশা প্রকাশ করছি। কিন্ত আমারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। আমরা দেখে দেখে পদক্ষেপ করছি। নির্বাচনের বিষয়ে রীতিমত সাবধানী আমরা। তবে কতগুলি আসন পাব তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে দলীয়স্তরে জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে কংগ্রেস ১০১টি আসন পাবে।তবে এবিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে বলার সময় এখনও আসেনি।