বাংলাদেশের ১ কোটি ৯০ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। ইউএন এজেন্সি ফর চিলড্রেন জানিয়েছে, বাংলাদেশের জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায়ই এদেশের শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সংশয়ে।

 

ইউনিসেফ-এর একটি রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি জলবায়ুগত দিক থেকে উন্নত হলেও, এখানকার ঘন জনবসতি, ঢালু জমি এবং দুর্বল পরিকাঠামোর জন্য প্রাকৃতিক বির্পয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে ঝড়, বন্যায় বিপর্যস্ত হচ্ছে মানুষের জীবন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-য় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এমনই জানা গিয়েছে।

 

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা কমে আসায় এবং জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবত৪ন হওয়ায় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশুর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশুরাও এর মধ্যে রয়েছে।

 

ইউনিসেফের রিপোর্ট –এ গ্যাদারিং স্টর্ম-এ বলা হয়েছে, পুরো বাংলাদেশ বরাবর নদী বয়ে গিয়েছে এবং প্রায়ই পাড় ভেঙে দেশের বিভিন্ন অংশ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ঘন ঘন বন্যা হওয়ায় ১ কোটি ২০ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।  

 

সাইমন ইনগ্রাম তাঁর এই রিপোর্টে বলছেন, ২০১৭-য় শেষ ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সময়ে পরপর হওয়া বেশ কয়েকটি বন্যায় বিপদের মুখে পড়েছিল ৮০ লক্ষ মানুষের জীবন। ব্রহ্মপুত্র নদ প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৪৮০টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ধ্বংস হয়েছিল ৫০ হাজার কূপ। জলের এই কূপগুলি বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়মিত জল সরবরাহ করত।

 

এই বন্যার ফলে মানুষ শুধু গৃহহারাই হয়নি। বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। পানীয় জলের অভাব ও স্যানিটেশন-এর অভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জীবন। ফলে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগতে শুরু করেছে। বন্যা বিধ্বস্ত এলাকার বহু শিশু হারিয়েছে পরিবার পরিজন। ফলত জীবনধারণ করতে শিশুশ্রমের কবলে পড়তে হয়েছে বহু শিশুকে। ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গিয়েছে তাদের। রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের প্রতি তিন শিশুর মধ্যে একজন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে।

 

বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় ৪৫ লক্ষ মানুষের বাস। এদের জীবন প্রায়ই ঝড়, সাইক্লোনের ফলে ব্যাহত হচ্ছে। আবার দেশের ভিতরের কিছু জায়গায় বসবাসকারী ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খরায়। বাংলাদেশের দরিদ্র গোষ্ঠীগুলো শিশুদের জন্য খাবার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করতে পারছে না। ফলে অধিকাংশ শিশুকেই চলে আসতে হচ্ছে ঢাকায়। পড়াশোনার বদলে অল্প বয়স থেকেই শ্রম এবং তারপর বিয়ে। এভাবেই শিশুদের সুনাগরিক হয়ে ওঠার যাত্রাপথ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।