বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এক  টুইটকে ঘিরে মঙ্গলবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়ায় নেটদুনিয়ায়। কারণ পরিচালক তার করা টুইটে লিখেছিলেন, 'আমার বাবা মারা গেলেন, কোভিড পজিটিভ ছিল, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক করে, কোন লক্ষণ ছিল না। সুস্থই ছিলেন... কিন্তু কীভাবে দেহ সৎকার করব কেউ আসছে না, ডেথ সার্টিফিকেটও দিচ্ছেন না, একটু হেল্প করুন, ব্যারাকপুর,রাজ চক্রবর্তী একটু দেখবি?'- পরিচালক সৃজিতের এই টুইট রীতিমতো বিভ্রান্তি ফেলে দেয় নেটদুনিয়ায়। অনেকেই এই টুইটে সৃজিতকে সমাবেদনা জানিয়েছেন। দাবানলের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। পরিচালক সৃজিতের বাবা আর নেই।

 

 

সৃজিতের এই টুইট দেখা মাত্রই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। কোভিড পরিস্থিতিকে ঘিরে চারিদিকে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। প্রতিনিয়ত মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারাচ্ছেন। এহেন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে দেশে অক্সিজেনের ঘাটতিতে শয়ে শয়ে রোগী মারা যাচ্ছে। হাসপাতালে বেডের অভাব, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর। স্বাভাবিক ভাবেই সৃজিতের এই টুইট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই মনে করতে থাকেন সৃজিতের বাবা হয়তো সত্যিই প্রয়াত হচ্ছেন, নাহলে পরিচালক এমন টুইট নিজের অ্যাকাউন্টে করতেন না। স্বাভাবিক ভাবেই সংবাদমাধ্যমে পরিচালকের পিতার প্রয়াণ খবরকে প্রতিবেদনের আকারে প্রকাশও করে দেয়।

 

 

ভুল ভাঙে কিছুক্ষণ পরেই। কারণ সৃজিত মুখোপাধ্যায় তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটটি ডিলিট করে দেন। এবং পরবর্তী এক টুইটে তিনি জানান তার পিতা ২০১৭ সালেই প্রয়াত হয়েছেন। ব্যারাকপুরের আশপাশের কেউ তার বাবার প্রয়াণের খবর দিয়ে সৃজিতের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সেই বার্তাই তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এমন ভাবে শেয়ার করেছিলেন যেন মনে হচ্ছিল সৃজিতই তার পিতাকে হারিয়েছেন। সৃজিত মুখোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের এক খ্যাতনামা নাম। রোজ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে রি-টুইটের সংখ্যাও কয়েক হাজার ছাপিয়ে যায়। দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেও সৃজিতকে টুইটারে ফলো করেন। অবশেষে সৃজিতের নতুন টুইটে ধোঁয়াশা কাটে। এবং জানা যায়,  ২০১৭ সালেই প্রয়াত হয়েছিলেন তার পিতা।

আরও পড়ুন-জিৎ 'Covid' নেগেটিভ হতেই করোনায় আক্রান্ত বাবা -মা, স্বপরিবারে হোম আইসোলেশনে টলিপাড়ার 'বস'...

কোভিড পরিস্থিতি এক অতি জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে চারপাশে। বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের মতে কোভিড একটি সংক্রমণ ঘটিত ভাইরাস রোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। যত না মানুষ এতে প্রাণ হারাচ্ছেন তার থেকে বহু মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন বা বাড়িতেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের আরও মত কোভিডের জন্য যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে সেগুলি যদি যথাযথভাবে পালন করেন, তাহলে তিনি কোভিড সংক্রমণের হাত থেকে অনেকটাই দূরত্ব রাখতে সক্ষম হবেন। তাই এশিয়ানেট নিউজ বাংলার আবেদন প্রত্যেকেই কোভিড বিধি মেনে চলুন ও নিজের সুরক্ষা বলয়কে শক্তিশালী করুন। আতঙ্কিত হবেন না বা জীবনের উপরে ভরসা হারাবেন না। কোভিডকে জয় করে মানবসভ্যতা আবার তার পুরোনো ছন্দে ফিরে আসবে।