ভক্ত সমাগমের ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় ওড়িশা সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, রথযাত্রা উত্সব এই বছর শুধুমাত্র পুরীতেই হবে, তাও ভক্ত ছাড়া। আগামী ১২ জুলাই এই বার্ষিক রথযাত্রা হওয়ার কথা। ২০২০-এর আগে, জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথের দড়ি টানার জন্য পুরীতে ভক্তদের স্রোত আছড়ে পড়ত। একদিনেই প্রায় ৮ লক্ষ মানুষের সমাগম হত। তবে গতবারের মতো এই বছরও সেই ছবি দেখা যাবে না। আর তা নিশ্চিত করতে রথযাত্রার সময়, পুরী জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করবে বলে জানা গিয়েছে।

রথযাত্রা সংক্রান্ত যাবতীয় অনুষ্ঠান জগন্নাথ মন্দির চত্বরেই অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির চত্ত্বর ছাড়া আর কোনও জায়গায় রথযাত্রার কোনও অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না। গত বছরও বড়া ডান্ডা নামে পরিচিত জগন্নাথ মন্দিরের সামনের বিশাল রাজপথ ছাড়া রাজ্যের আর কোথাও রথ যাত্রা পালন করতে দেওয়া হয়নি। এবারও সেই ব্যবস্থাই বলবত থাকবে। তবে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে বিভিন্ন মন্দিরের ভিতর রথযাত্রা সম্পর্কিত অনুষ্ঠানগুলি করা যেতে পারে, কিন্তু কোথাও রথ টানা যাবে না।

জগন্নাথ মন্দিরেও কেবল সেবাইত বা পুরোহিতদেরই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হবে। তাও হয় টিকার দুটি ডোজই নেওয়ার শংসাপত্র দেখাতে হবে, কিংবা, উত্সব শুরু হওয়ার আগে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করিয়ে কোভিড-১৯ নেতিবাচক রিপোর্ট দেখাতে হবে, তবেই রথযাত্রা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। রথের দড়ি যারা টানবেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, শ্রী জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি অনুসারে সেবাইত, পুলিশ কর্মী বা অন্য আধিকারিকরা রথ টানবেন। দুটি রথের মধ্য়ে পর্যাপ্ত ব্যবধান থাকতে হবে। প্রতিটি রথ টানার জন্য ৫০০'র বেশি ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হবে না। রথযাত্রা উৎসবের সময় ভক্ত সমাগম না হওয়া নিশ্চিত করতে ট্রেন, বাস এবং কোনও ব্যক্তিগত যানবাহনকে পুরী শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই বিধি ভাঙলে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন, ২০০৫ এবং কোভিড-১৯ বিধান ২০২০-এর ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।