করোনাভাইরাসের B1.617 বা বি ১.৬১৭ রূপটিকে অনেকেই ভারতীয় রূপ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। কিন্তু তা কখনই নয়। একটি বিবৃতি জারি করে তেমনই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলেগেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-র। কারণ সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জীবাণু বা তার পরিবর্তিত জিনের সঙ্গে কখনও কোনও দেশের নাম যুক্ত করার অতীত ইতিহাস বা প্রভাব তাদের নেই। সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বদা বৈজ্ঞানিক নামেই ভাইরাস বা স্ট্রেইনকে চিহ্নিত করা হয়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতীক্রম হয়নি। 

করোনাভাইরাসের B1.617 বা বি ১.৬১৭ রূপটিকে ভারতীয় করোনাভাইরাসের রূপ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO দাবি করা হয়েছে বলে যে খবর প্রচারিত হচ্ছ তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানান হয়েছে WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের এই রূপটিকে ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তাদের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি সম্পর্কে ভারতীয় শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। 

গতকালই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের নতুন রূপান্তর বি ১.৬৭১ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে বর্তমানে ভাইরাসের এই নতুন রূপটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই এই রূপটিকে ভারতীয় রূপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাই সেটিতে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনার নতুন রূপটি ব্রিটেন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ অফ্রিকার পর ভারতে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। মূল ভাইরাসটির থেকে এটি দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই রূপটিকে ডবল মিউট্যান্ট হিসেবেও চিহ্নিত করেছে। রিপোর্ট অনুসারে ৪৪টি দেশের সাড়ে ৪ হাজার মানুষের নমুনায় নতুন ভাইরাসটির সন্ধান পাওয়া গেছে। কবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই স্টেইনটিতে ভারতীয় রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব শাখার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভাইরাস বা পরিবর্তিত জিনের নাম করণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কখনই কোনও দেশের নামজুড়ে দেয় না। ভাইরাস বা স্ট্রেইনটি প্রথম কোন দেশে সনাক্ত করা  হয়েছে তার ভিত্তিতে নামকরণ করা হয় না। বৈজ্ঞানিক নাম গুলিই সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে বাকি সকলকেও এই পথ অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে আবেদন জানান হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে গতকালই বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে করোনাভাইরাসের নতুন এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা। করোনা সংক্রমণের  বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভারতের একমাত্র অস্ত্রও হল টিকা। তেমনই দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।