বিশ্বকাপ ফাইনালের মোড় বদলে দিয়েছিল ওই চারটি রান। ইংল্যান্ড ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভারে মার্টিন গাপ্টিলের ছোড়া বল বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি লাইন পেরিয়ে গিয়েছিল। যার ফলে ওভারথ্রোয়ে অতিরিক্ত চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৩ বলে ৯ রানের জায়গায় এক ইংল্যান্ডের লক্ষ্য কমে দাঁড়ায় ২ বলে ৩ রান। বাকিটা ইতিমধ্যেই ইতিহাস। 

আরও পড়ুন- বাউন্ডারির সংখ্যা নয়, জয়ী বাছতে আইসিসি-কে নতুন ফর্মুলা দিলেন সচিন তেন্ডুলকর

ইংল্যান্ড পেসার জেমস আন্ডারসনের অবশ্য দাবি, ওই চার রান বাতিল করার জন্য নাকি আম্পায়ারদের অনুরোধ করেছিলেন ফাইনালের নায়ক বেন স্টোকস। কিন্তু যেহেতু নিয়ম মেনেই ইংল্যান্ড ওই চার রান পেয়েছিল, তাই তা বাতিল করেননি আম্পায়াররা। 

আরও পড়ুন- ফাইনালেও মস্ত বড় ভুল! আম্পায়ারিং ঠিক হলে আগেই হেরে যেত ইংল্যান্ড

ঘটনার সময় দু' রান নেওয়ার জন্য ছুটছিলেন মরিয়া স্টোকস। ক্রিজে ঢোকার আগে তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া ব্যাটে লেগেই গাপ্টিলের ছোড়া বল গতিমুখ পরিবর্তন করে থার্ডম্যান বাউন্ডারির দিকে চলে যায়। নিউজিল্যান্ডের এক ফিল্ডার ছুটেও তার নাগাল পাননি। ঘটনার পরেই অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায় স্টোকসকে। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ঘটনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও তাতে আমল দেননি আম্পায়াররা। একধাপ এগিয়ে আন্ডারসন দাবি করলেন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ওই চার রান বাতিল করার জন্য নাকি আম্পায়ারদের আবেদন করেছিলেন স্টোকসও। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করে চার রান দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন মাঠে থাকা আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। 

আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যমকে আন্ডারসন বলেছেন, 'যদি ফিল্ডারের ছোড়া বল কোনওভাবে ব্যাটসম্যানের গায়ে বা ব্যাটে লেগে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়, তাহলে সৌজন্যবশতই সেই রান নেওয়া হয়না। কিন্তু সেটি বাউন্ডারি পেরিয়ে গেলে তখন আর ব্যাটসম্যানের করণীয় কিছু থাকে না।' আন্ডারসনের দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনকে নাকি খেলার পরে স্টোকস নিজেই জানিয়েছেন যে, আম্পায়ারদের গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে ওই চার রান তাঁরা চান না। ওই রান বাদ দিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী তা করা যায়নি। 

ইতিমধ্যেই ওই ওভারথ্রোয়ের সময়ে রানের হিসেব করতে গিয়ে আম্পায়ারদের আরও একটি বড় ভুল সামনে এসেছে। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ইংল্যান্ডের পাঁচ রান পাওয়া উচিত ছিল। কারণ দুই ব্যাটসম্যান ক্রস করার আগেই বল ছুড়ে দিয়েছিলেন গাপ্টিল। সেই অনুযায়ী, পরের বলে স্ট্রাইক পাওয়া উচিত ছিল আদিল রশিদের। কিন্তু ইংল্যান্ডকে দেওয়া হয় ছ' রান। পরের বলে স্ট্রাইকেও থেকে যান স্টোকস। ফলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের।