একটি দল, যাদের মারকুটে ব্যাটসম্যানদের ব্য়াট চলে ৪০০ উপর রান উঠতে পারে, আবার কোনওদিন সবাই দ্রুত আউট হয়ে ১৭০-১৮০ রানেও গুটিয়ে যেতে পারে। আরেকটি দলকে যখনই খারাপ খেলার জন্য হিসেব থেকে বাদ দেওয়া হয়, তখনই তারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দেখিয়ে দেয়। ন তারা কী করবে তা নিজেরাও জানে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান - ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে অনিশ্চয়তায় ভরা দুই এই দুই দলই ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯-এর দ্বিতীয় ম্য়াচে মুখোমুখি।

ওয়েস্টইন্ডিজ দল এইবার যোগ্যতা্র্জন পর্ব খেলে বিশ্বকাপ খেলার টিকিট জোগার করেছে। কিন্তু তাদেরকেই এই বিশ্বকাপের 'কালো ঘোড়া' হিসেবে ধরা হচ্ছে। ওয়ার্ম আপ ম্য়াচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ে তারা তার প্রমাণও দিয়েছে। এই মুহূর্তে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে তারা।

তাদের এইবারের দল অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য়ের নিখুঁত মিশেলে তৈরি। দলে রয়েছেন ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, শাই হোপ, শিমরন হেতমায়ারদের মতো বিগ হিটাররা। অন্যদিকে বোলিং বিভাগে রয়েছেন কেমার রোচ, শেলডন কটরেল, অধিনায়ক জেসন হোল্ডাররা। কিউইদের বিরুদ্ধে ম্যাচে কিন্তু ক্যারিবিয়ানরা দেখিয়ে দিয়েছে, যে কোনও বোলিং আক্রমণকে ছিড়ে খাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে বড় শট নিতে গিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার নিরর্শনও রয়েছে তাঁদের। আর আলাদা করে বলতেই হবে কেকেআর-এর আন্দ্রে রাসেলের কথা। ২০১৫ সালের পর থেকে মাত্র একটিই একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু আইপিএল-এর মতো বিশ্বকাপও তিনি এইবার মাতিয়ে দেবেন এমনটাই আশা ক্যারিবিয়ান দলের।

অন্যদিকে গত কয়েকমাসে ক্রমশ পড়েছে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং শেষে ইংল্য়ান্ড - পর তিনটি সিরিজে পরাজিত হয়েছে তারা। ওয়ার্ম-আপ ম্য়াচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও হারতে হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপেই এই হতশ্রী দশা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে তারা। তা যে সম্ভব, তার অনুপ্রেরণা সরফরাজরা নিচ্ছেন ২০১৭ সালের চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে। ইংল্য়ান্ডের মাটিতেই সবাইকে চমকে দিয়ে সেই ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। আরও একবার সেটাই করে দেখাতে চাইছে তারা।

ওয়েস্টইন্ডিজের মতো কিন্তু ৪০০ রান তোলার ক্ষমতা নেই পাকিস্তামনি ব্যাটিং-এর। তাদের ইনিংস ঘোরাফেরা করে ২৫০ থেকে ৩২০-র মধ্যে। আর বাকিটা সামাল দেয় বোলিং বিভাগ। পাানিদের ভালো কিছু করতে গেলে, ব্য়াটিং-এ ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমের রান পাওয়াটা অত্যন্ত দরকারি। অধিনায়ক সরফরাজ রানের মধ্যে আছেন। বোলিং-এ তাদেরস প্রধান ভরসা ওয়াহাব রিয়াজ ও শাদাব খান। মহম্মদ আমির কেমন বল করেন তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে পাক দলের।

দুই দলের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ক্রিস গেইল, এভিন লুইস, শাই হোপ (উইকেটরক্ষক), ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন হেতমায়ার, আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), অ্যাশলে নার্স, ওশানে থমাস, শেলডন কটরেল, কেমার রোচ।

পাকিস্তান: ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম, মহম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), আসিফ আলি, ইমাদ ওয়াসিম, ওয়াহাব রিয়াজ, শাদাব খান, হাসান আলি, মহম্মদ হাসানাইন।