বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের ক্রিকেটের হারের ধারা অব্যাহত থাকল। শুক্রবার ব্রিস্টলের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও রোমাঞ্চকর ম্যাচে একেবারে শেষ ওভারে গিয়ে পরাজয় স্বীকার করতে হল সরফরাজ আহমেদ-এর দলকে। ফলে বিশ্বকাপের আগে এই নিয়ে টানা ১০ ম্যাচে তারা পরাজিত হল। অপর পক্ষে বিশ্বকাপের ঠিক আগেই দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ম্যাচেই দারুণ সাফল্যের স্বাদ পেলেন নয়া আফগান অধিনায়ক গুলবদিন নইব।

প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান। তারপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও চারটি ম্য়াচেই হেরে যান সরফরাজরা। তারপর প্রস্তুতি ম্য়াচে আফগানিস্তানের মতো ক্রিকেট বিশ্বের নতুন শক্তির কাছেও হারের মুখ দেখার পর, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে আর কতটা পড়বে পাক ক্রিকেটের মান?

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চারটি ম্য়াচেই হারতে হলেও প্রচি ম্যাচেই ৩০০-এর উপরে রান তুলেছিলেন পাক ব্যাটসম্যানরা। ওই সিরিজে তাদের ডুবিয়েছিল বোলিং বিভাগ। আফগানদের বিরুদ্ধে কিন্তু পাকিস্তান ২৬৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি। প্রতিভাবান আফগান বোলিং আক্রমণের সামনে এরপ্রকার আত্মসমর্পনই করে বসেন পাক ব্য়াটসম্য়ানরা।

একমাত্র বাবর আজম ও শোয়েব মালিক নিজেদের মধ্যে ১০৩ রানের জুটি গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। সেই একটা সময়ই মনে হয়েছে পাকিস্তান বড় রান তুলতে পারে। তা বাদ দিলে আর একজন পাক ব্য়াটসম্য়ানও মহম্মদ নবি, রশিদ খান, দৌত জারদান-দের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে গিয়েছেন আফগান বোলাররা।

রান তারা করতে নেমে আফগানরা কিন্তু তাঁদের ক্রিকেট পরিণতির পরিচয় দিয়েছেন। পাকিস্তান একটির বেশি বড় রানে জুটি গড়তে না পারলেও, আফগানিস্তান জুটি গড়াতেই মন দিয়েছিল। হাসমতউল্লা শহিদি সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। তবে জয়ের কাছাকাছি এসে আফগানিস্তানে অনভিজ্ঞতা প্রকাশ পায়। শেষের দিকে স্নায়ুর চাপ ভুগে পর পর কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বসে। তবে ২ বল বাকি থাকতে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক জয় তুলে নেয় তারা।

ম্যাচের পর আফগান অধিনায়ক জয়ের সব কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের বোলারদের। তিনি জানান, ব্রিস্টলের উইকেট ৩০০-এর উপরে রান তোলার মতো ছিল। বোলাররাই তা হতে দেননি। বিশ্বকাপের মুখেই এই দারুণ জয়, দলের ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীকেও উদ্বুদ্ধ করবে বলেই তাঁর মত। এই জয় আফগানিস্তানের ক্রিকেট প্রেমীদের উৎসর্গ করেছেন তিনি।

এইবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তান অনেককেই চমকে দিতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের এদিনের পারফরম্যান্স সেই অনুমানকেই উসকে দিয়েছে।

অপরদিকে পাকিস্তানের পড়তি ফর্ম আইসিসির কাছে চিন্তার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ডে বহু প্রবাসী পাকিস্তানির বাস। পাক দলের এই হতশ্রী দশা দেখার পর তাঁরা আদৌ বিশ্বকাপে মাঠমুখি হবে কিনা, এটাই ভাবাচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থাকে। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান দলের চরিত্রটাই এইরকম। টানা ১০ ম্যাচ হারলেও য়তো বিশ্বকাপ শুরু হলেই তাঁদের দুরন্ত ফর্মে দেখা যাবে।