‘সিটি অফ জয়’ থেকে ‘সিটি অফ ড্রিমস’, দুর্গাপুজোর আমেজ স্বপ্নের মুম্বইতেও, জেনে নিন এখানকার পুজোর বিশেষত্বগুলি

| Sep 26 2022, 06:13 PM IST

‘সিটি অফ জয়’ থেকে ‘সিটি অফ ড্রিমস’, দুর্গাপুজোর আমেজ স্বপ্নের মুম্বইতেও, জেনে নিন এখানকার পুজোর বিশেষত্বগুলি

সংক্ষিপ্ত

সারা বছরের বিভিন্ন উৎসবে মেতে থাকে স্বপ্নের শহর মুম্বই। কাজ করার তাগিদ যেমন মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে বেরায়, তেমনই দুর্গাপুজোর আনন্দ মাতিয়ে রাখে একটানা ৫ দিন। মেতে ওঠেন সেলিব্রিটিরাও। 

সিটি অফ জয় থেকে সিটি অফ ড্রিমস, দুর্গাপুজো ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর সমস্ত বাঙালিদের হৃদয়ে। মুম্বইকে বলা হয় ‘স্বপ্নের শহর’। ভারতের যেকোনও প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে চাকরির জন্য আসেন। শহরটি সারা বছরের বহু উৎসব উদযাপনের জন্য বিখ্যাত, যেমন গণেশ চতুর্থী, মহা শিবরাত্রি, সংক্রান্তি, বঙ্গ উৎসব বা আরও অনেক কিছু। মুম্বইয়ের দুর্গাপুজো উদযাপনও সমান আকর্ষণীয়। উৎসবের ৫ দিন পুরো শহর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

১৯৯৬ সালে স্থানীয় বাঙালি পরিবারগুলি প্রথমে শুরু করেছিল লোখান্ডওয়ালার দুর্গাপুজো। এই পুজো প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বাঙালি ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা। বর্তমানে লোখান্ডওয়ালা দুর্গাপুজোর প্রধান উদ্যোক্তা হলেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তাই স্থানীয় মানুষ এই পুজোকে ‘অভিজিৎ দুর্গাপুজো’ বলে ডাকেন।

Subscribe to get breaking news alerts

বেঙ্গল ক্লাব, শিবাজি পার্ক দুর্গাপুজো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। এই বছর ক্লাবটি ৮৬ তম দুর্গা পুজো উদযাপন করতে চলেছে। এই হাই-বাজেটের দুর্গাপুজো প্রতি বছর ২ লক্ষেরও এরও বেশি ভক্তকে আকর্ষণ করে। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি ক্লাবটি অন্যান্য অনেক পুজো, খেলা, অনুষ্ঠান ইত্যাদি আয়োজনের জন্য বিখ্যাত।

নভি মুম্বাই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন ক্লাবটিকে মহারাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম বাঙালি সমিতি বলে মনে করা হয়। ক্লাবটি বোম্বে পাবলিক ট্রাস্ট অ্যাক্ট ১৯৫০ এবং ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট XXI এর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছিল। লন্ডনের দুর্গাপুজোর মতো, এই ক্লাবও সরস্বতী পুজো, কালী পুজো, খেলাধুলা, বাংলা নববর্ষ, রবি ঠাকুরের জন্মদিন, শিল্পকলা ইত্যাদির মতো অনেক বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এখানে বিশাল দুর্গাপুজো উদযাপন ছাড়াও সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়।


নর্থ বোম্বে সার্বজনীন দুর্গা পুজো সমিতি প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করে, যা মুম্বইয়ের অন্যতম প্রাচীন পুজো। এই পুজোটি ১৯৪৮ সালে পদ্মশ্রী শশধর মুখার্জি দ্বারা শুরু হয়েছিল এবং এখন এটি 'মুখার্জি দুর্গাপুজো' নামে পরিচিত। রানি মুখার্জি, কাজল, অয়ন মুখার্জি, তানিশা মুখার্জি, কিংবদন্তি অভিনেত্রী তনুজা এবং অন্যান্য অনেক পরিচিত ব্যক্তিত্বের মতো বলিউডের বহু সেলিব্রিটিরা পুজোর দিনগুলিতে এই মণ্ডপে আসেন। এ ছাড়া, কলকাতা থেকে বিশেষভাবে অর্ডার করা দেবী দুর্গার পরিবেশবান্ধব প্রতিমার পুজো হয় এই  কমিটিতে।

পওয়াই সর্বজনীন দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছিল পাওয়াই বেঙ্গলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (পিবিডব্লিউএ)। তারা পওয়াইয়ের হিরানন্দানি গার্ডেন জুড়ে পুজো উদযাপন করে। এই প্যান্ডেলটি প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগমের সাক্ষী থাকে।

ভাশী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন – ভিসিএ দুর্গাপুজো। এই দুর্গাপুজোকে সাধারণ মানুষ নভি মুম্বাই দুর্গাপুজো বলে জানেন। এই পুজো ২০০৫ সালে ভাশীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিউইয়র্কের দুর্গাপুজো সম্প্রদায়ের মতো এই সমিতিও মুম্বইয়ে পশ্চিমি সংস্কৃতির মাঝখানে বাঙালি মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। 

নতুনপল্লী সর্বজনীন দুর্গোৎসব, যাকে ‘বান্দ্রা দুর্গাপুজো’-ও বলা হয়। এই পুজো ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রমোদ চক্রবর্তী, শক্তি সামন্ত এবং বাসু চ্যাটার্জির মতো সেলিব্রিটিরা এই পুজো শুরু করেছিলেন। কিশোর কুমার, অমিতাভ বচ্চন, রাখী, আশা ভোঁসলে, হেমন্ত কুমার, শক্তি সামন্ত, এবং আর ডি বর্মণ, প্রমুখরা সহ চলচ্চিত্র শিল্পের ১৯৭০-এর দশকের নামিদামি শিল্পীরা এই পুজোর পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।

খারে এলাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দুর্গাপুজো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩২ সালে। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এখানে দাতব্য হাসপাতাল এবং লাইব্রেরির জন্য সুপরিচিত। এছাড়াও, তারা চক্ষু শিবির, রক্তদান শিবির, ত্বকের চিকিৎসা শিবির, ডেন্টাল ক্যাম্প এবং অনেক গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের মতো বিভিন্ন শিবিরের আয়োজন করে।

পূর্ব কান্দিভালিতে অবস্থিত ঠাকুর গ্রামের দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে কান্দিভালির ঠাকুর গ্রামের হিলসাইড রেসিডেন্টস কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ঠাকুর মানে দেবতা, আর ঠাকুর গ্রাম মানে হল দেবতাদের গ্রাম। এই সমিতি হল আবাসন উপনিবেশগুলির একটি গ্রুপ, যারা ঠাকুর গ্রামে বাস করে এবং একসঙ্গে পুজো উদযাপন করে।

মুম্বইতে জুহু সার্বজনীন দুর্গোৎসব দুর্গাপুজো হল শহরের আরেকটি বিখ্যাত দুর্গাপুজো। স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। 

থানেতে অবস্থিত বঙ্গীয় পরিষদ একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৬৩ সালে, কয়েকজন বাঙালি হাত মিলিয়ে বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের প্রচারের জন্য বঙ্গীয় পরিষদ থানে প্রতিষ্ঠা করেন। হাজার হাজার কমিটির সদস্য সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করে থাকেন। তাঁরা রক্তদান শিবির, বাংলা বই, লাইব্রেরি, প্রদর্শনী ইত্যাদির আয়োজন করেন। রবীন্দ্র জয়ন্তী, সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন, পারিবারিক পিকনিক এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন সহ বার্ষিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।


আরও পড়ুন-
মাঝ আকাশে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল হেলিকপ্টার! পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৬ কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু
মহালয়ার ভোরে সকাল সকাল স্নান সেরে  'মহিষাসুরমর্দ্দিনী' শুনলেন অনুব্রত মণ্ডল, ছুঁলেন না জেলের আমিষ খাবার
“একটাই আক্ষেপ, বিশ্বকাপটা যদি নিয়ে আসতে পারতাম…”, অবসর নিয়ে ঘরে ফিরলেন ঝুলন গোস্বামী 

Read more Articles on
null