আশা ছিল। সেই সঙ্গে মনে মনে অনেকেই ভেবেও নিয়েছিলেন। কারণ, মোদী-অমিত শাহ-দের স্বপ্নের আহ্বানে দিদি-র জোর রাজত্বেও তৃণমূলকে এড়িয়ে বিজেপি-কে ভোট দেওয়া হয়েছে। য়ার নিট ফল বঙ্গের বুকে সতেরোতম লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন প্রাপ্তি বিজেপি-র। ২০১৪ সালে যা ছিল ২টো। এমনকী বিজেপি-র ভোটের হারও ৩০ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণেও যেভাবে বাংলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল তাতে মনে করা হচ্ছিল যে এবারের কেন্দ্রীয় সরকারেও নিশ্চয় বাংলা-র একটা জোরদার প্রতিনিধিত্ব থাকছে। ফলে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর শপথ গ্রহণের পর যখন এক এক করে অমিত শাহ, রাাজনাথ-দের শপথ বাক্য পাঠ করাতে ডাকা হচ্ছিল তাতে তখন মুহূর্ত গুণছিল বাংলা। 

আরও পড়ুন- ৬ হাজার মানুষের সামনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোদী

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনেকটা সময় গড়ানোর পর উচ্চারিত হল বাবুল সুপ্রিয়র নাম। বাবুল সুপ্রিয় মঞ্চে উঠে রাষ্ট্রপতির বলে দেওয়া শপথ বাক্যের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারণ করে শপথ নিলেন। আসানসোলের সাংসদ মঞ্চে উঠতেই নড়ে চড়ে বসেছিল বাংলা বিজেপি-র নেতৃত্বের একটা অংশ।  তাহলে কি শিকে ছেড়ার পালাটা শুরু হল। কলকাতায় বিজেপি-র প্রদেশ দফতরেও যে-সব নেতা-কর্মী নজর রেখেছিলেন তাঁরাও একটু নড়ে-চড়ে বসলেন। কিন্তু, বাবুল সুপ্রিয়-র পরে কোথায় আর বাঙালি নাম। নিত্যানন্দ রাই বলে এক সাংসদ প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। তাঁর রাই পদবিটা অনেক সময় কানে রায় বলে ঠাহর হচ্ছিল। ফলে অনেকেই ফিসফাস করছিলেন নিত্যানন্দ কোথাকার সাংসদ? কারণ এমন নামে কোনও সাংসদ বাংলা থেকে বিজেপি-র টিকিটে নির্বাচিত হয়নি। একটু পরে অবশ্য অনেকেরই ভুল ভাঙে। কারণ ওঠা রায় পদবি নয় রাই।  

বাবুল সুপ্রিয় ২০১৪ সালেই আসানসোল থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে মোদী সরকারে স্থান পেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে বাংলা থেকে আরও একজন মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি হলেন সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়া। ২০১৪ সালে অহলুওয়ালিয়া দার্জিলিং থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। এবার বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছেন অহলুওয়ালিয়া। কিন্তু, তিনি এবার মন্ত্রীত্ব পাননি। বাবুল সুপ্রিয়-র সঙ্গে বাংলা থেকে দ্বিতীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তিনিও প্রতিমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন। দেবশ্রী চৌধুরী রায়গঞ্জ লোকসভা আসন থেকে সাংসদ হয়েছেন। বালুরঘাটের মেয়ে হলেও দেবশ্রী ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এবার রায়গঞ্জ থেকে। প্রদেশ বিজেপি-তে তিনি পরিচিত মুখ হলেও সেভাবে তাঁকে হেভিওয়েট প্রার্থী বলা যায় না। ফলতই দেবশ্রী-র মন্ত্রীত্বের পদ পাওয়া নিয়ে অনেকেই অবাক। বিশেষ করে যেখানে সুরিন্দর সিং অহলুওয়ালিয়ার মতো এক জন রয়েছেন। 

২০১৪ সালে ২টি আসনে সাংসদ পেয়ে মোদী সরকারে মন্ত্রী হিসাবেই দুজনেরই ঠাঁই হয়েছিল। তাহলে এবারের মতো একটা অতিগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিজেপি-কে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে তুলে নিয়ে আশার পরও বাংলা থেকে মাত্র ২ জন সরকারে ঠাঁই পেয়েছে, এই ভেবেই অনেকে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। যদিও, দেবশ্রী-র দাবি প্রতিমন্ত্রী হিসাবে তিনি বাংলা এবং রায়গঞ্জের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।