গত পাঁচ বছরে সরকার চালানোর ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদীর অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন অরুণ জেটলি। কিন্তু দ্বিতীয়বার মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায় সম্ভবত থাকছেন দিল্লির প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। শারীরিক অসুস্থতার জন্য সম্ভবত এবার অব্যাহতি নিচ্ছেন জেটলি। ফলে জেটলি জায়গায় কে অর্থমন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামাল দিতে পারেন. তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এমনকী, সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নামও।

গত দু' সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কার্যত গৃহবন্দি। বাড়িতে বসেই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ সচিবদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন তিনি। নিয়মিত ব্লগও লিখেছেন। দলের দুর্দান্ত ফলাফলে নরেন্দ্র মোদী এবং দলের কর্মীদের শুভেচ্ছা জানালেও ফল বেরনোর পরে সদর দফতরে থাকতে পারেননি তিনি। তাই ধরেই নেওয়া হচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন না জেটলি। খুব বেশি হলে এমন কোনও দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন, যাতে শারীরিক ধকল কম পড়ে।

এই অবস্থায় এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে অর্থমন্ত্রী হিসেবে জেটলির জায়গায় কে আসবেন. তা নিয়ে। জেটলির অনুপস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো পীযুষ গয়ালই এই মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আবার সংস্কারপন্থী  হিসেবে পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির নামও শোনা যাচ্ছে। আর সবথেকে বড় চমক হিসেবে শোনা যাচ্ছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নামও। বিজেপি-র অন্দরের খবর, জেটলির ছেড়ে যাওয়া জায়গায় এমন কাউকে বসাতে চাইছে দল যিনি ফের দেশের অর্থনৈতিক প্রগতির হারকে সাত শতাংশের উপরে নিয়ে যেতে পারবেন। 

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য জেটলির কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে পাঠানো ই- মেল, মেসেজের জবাব দেননি তিনি। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলাও সম্ভব হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত সচিব, সহকারী সচিবদের থেকেও কোনও উত্তর পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকেই জেটলির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এ বছরই অন্তর্বর্তী বাজেটও পেশ করতে পারেননি জেটলি। সেই সময় ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যেতে হয়েছিল তাঁকে।

জেটলির হাত ধরেই প্রায় দু' দশক ধরে আটকে থাকা জিএসটি প্রণয়নে সফল হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সরকারের অন্দরে যে কোনও গুরুতর সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর উপরই ভরসা করতেন প্রধানমন্ত্রী। দলের মধ্যেও মোদী, শাহের পরে কার্যত তিন নম্বর জায়গাটি ছিল জেটলির দখলে। 

প্রথমবার সরকার গঠনের পর অরুণ জেটলিকে অর্থ, প্রতিরক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এর থেকেই স্পষ্ট জেটলির উপরে কতটা ভরসা করতেন প্রধানমন্ত্রী।

এ হেন জেটলির অনুপস্থিতি যে সরকার চালাতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বার বার টের পাবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব না নিতে পারলেও সুস্থ হয়ে দল এবং সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকুন, এটাই প্রার্থনা বিজেপি শিবিরে। জেটলি ছাড়াও সুষমা স্বরাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। জেটলির মতো তিনিও শারীরিক কারণে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। ফলে নতুন সরকারে দুই বিশ্বস্ত সেনাপতিকে ছাড়াই হয়তো মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে।