আমেঠিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস বুথ দখল করছে - নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগ করে মুখ পুড়ল স্মৃতি ইরানির। উত্তরদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভেটেশ্বর লু জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর করা অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন।

তিনি জানান, স্মৃতি ইরানির অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁরা সেক্টর অফিসার, অন্যান্য সিনিয়র আধিকারিকরা এমনকি অবজারভার অবধি ওই বুথে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে সাময়িকভাবে প্রিসাইডিং অফিসারকে বরখাস্ত করে, সব দলের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। কিন্তু, ভোট লুঠ হওয়া বা বুথ দখলের কোনও ঘটনার সন্ধান তাঁরা পাননি। অভিযোগের সঙ্গে স্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওস্ট করেছিলেন, যা সাজানো বলেই জানিয়েছে কমিশন।

এর আগে কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকেও স্মৃতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছিল। কংগ্রেসের মুখপাত্র জিশাহহায়দার দাবি করেন, আমেঠিতে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এখন বাহানা বানাতে এই সব অভিযোগের রাস্তায় হাঁছেন স্মৃতি ইরানি তথা বিজেপি দল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কমিশন মোদী-শাহের প্রতিই পক্ষপাত করছে, কাজেই রাহুল গান্ধী যদি বুথ দখল করে থাকেন, তাহলে কমিশন চুপ করে আছে কেন।

সোমবার, ছিল লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এর পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ। আমেঠির বিজেপি প্রার্থী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ওইদিন দুপুরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সঙ্গে লেখেন, কংগ্রেস সভাপতি বুথ দখল নিশ্চিত করেছেন। সেই ভিডিও-তে এক বৃদ্ধা অভিযোগ করেন তাঁকে জোর করে কংগ্রেসে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। তিনি বিজেপি-কে ভোট দিতেয়েছিলেন, তাঁর হাত ধরে জোর করে কংগ্রেসের পাশের বোতাম টেপানো হয়।

 

 

২০১৪ সালে আমেঠিতে স্মৃতি ইরানি, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পরাজিত হলেও দারুণ লডা়ই দিয়েছিলেন। ৩ লক্ষের থেকে রাহুলের জয়ের ব্যবধান ১ লক্ষে নামিয়ে এনেছিলেন। এইবারও স্মৃতিকে আমেঠি থেকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। সোমবার স্মৃতি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছিলেন, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা বলে বলে আশা করেছেন তিনি। রাহুলের এই ধরণের রাজনীতি-কে শাস্তি দেবে কিনা তা দেশ ঠিক করবে। আপাতত কমিশের জবাব মিলল। দেশ কী ভাবছে তা জানতে ৩০ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।