অবশেষে আগামী ২৪ মে তারিখটি ঠিক করা হল বিবেক ওবেরয় অভিনিত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাীবন অনুকরণে নির্মীত ছবি 'পিএম নরেন্দ্র মোদী'-এর মুক্তির দিন হিসেবে। তার একদিন আগেই অর্থাত ২৩ মে তারিখে প্রকাশিত হবে লোকসভা নির্বাচন ২০১৯-এর ফলাফল। গত ১১ এপ্রিল অর্থাত যেইদিন লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়, সেইদিনই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্ট ছবিটিকে ছাড় দিলেও নির্বাচন কমিশন লোকসভা নির্বাচন-পর্ব না মেটা অবধি ছবিটি দেখানো যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপরই কমিশনের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিলেন ছবিটির নির্মাতারা। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না।

তবে, কমিশন জানিয়েছিল সপ্তম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব মিটলেই অর্থাত ১৯ মে তারিখের পরই ছবিটি প্রকাশ করা যেতে পারে। নির্মাতারা কিন্তু একেবারে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেন। অর্থাত 'পিএম নরেন্দ্র মোদী' প্রকাশের আগেই ভুভারত জেনে যাবে মোদী আর প্রধানমন্ত্রী থাকছেন কি থাকছেন না।

শুক্রবার, ছবিটির প্রযোজক সন্দীপ সিং জানিয়েছেন, যে কোনও দায়িত্বশীল নাগরিকের মতোই দেশের আইনকে তাঁরা সম্মান করেন। তবে একই সহ্গে ছবিটি ঘিরে দর্শক মহলে বেশ উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই সবকটি দিক মাথায় রেখে নিজেদের মধ্যে  আলোচনা করেই তাঁরা মনে করেছেন লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের ঠিক পরের দিনটাই ছবিটি মুক্তি পাওযার জন্য আদর্শ সময়। তবে ভোটগ্রহণ পর্ব মিটবে ১৯ মে। তারপর ছবিটির প্রচারের জন্য হাতে আর মাত্র ৪টি দিন থাকবে বলে কিছুটা আফশোষও রয়েছে নির্মাতাদের মধ্যে।

ওমুং কুমার পরিচালিত এই ছবিটি ঘিরে অবশ্য আগে থেকেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৈশোর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ আসনে আসীন হওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। নাম ভূমিকায় বিবেক ওবেরয় ছাড়াও বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে বোমান ইরানি ও জারিনা ওয়াহাবকে। ছবিটির আড়াই মিনিটের ট্রেলার প্রকাশের অল্প কিছুক্ষণের মধ্য়েই ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সেই ট্রেলারে চোখ রেখেছিলেন।  

তবে ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই বিতর্কে জড়িযয়েছে ছবিটি। গীতিকার হিসেবে নাম থাকা জাভেদ আখতার ও সমীর ছবিটির সঙ্গে কোনওভাবে তাদের সংযোগ থাকার কথা অস্বীকার করেন। অভিযোগ করেন, কোনও অবদান ছাড়াই তাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতাদের ব্যাখ্যা ছিল, জাভেদ ও সমীরের আগে লেখা গানে কিছু অংশ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই কারণেই ক্রেডিট অংশে তাঁদের নামও দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বাধা আসে অবশ্য কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দলগুলির দিক থেকে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা অভিযোগ করে এই ছবি মোদীর আত্মপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। ভোটারদের প্রভাবিত করতেই তৈরি করা হয়েছে এই ছবি। প্রযোজকদের মধ্যে বিজেপির পদস্থ কর্মীরাও রয়েছেন সেই দিকটিও তুপলে ধরে নির্বাচনী বিধ-ভঙ্গের আরোপ আনা হয়।

কার্যত বিরোধীদের অভিযোগকেই মেনে নেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। তারা সাফ জানিয়েছিল এই ধরণের বায়োপিক বা বায়োগ্রাফি, বকলমে কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিত্বের উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বচনের সময় রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। এই ধরণের বায়োপিকের প্রদর্শন আদর্শ নির্বাচন বিধি ভঙ্গের সামিল।

যদি এই বারের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী পুণর্নির্বাচিত হন, তাহলে 'পিএম নরেন্দ্র মোদী' যে সুপার হিট হবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু যদি মোদী হেরে যান তাহলে কিন্তু বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে ছবিটি। সাহসের সঙ্গেই সেই ঝুঁকিটা নিলেন নির্মাতারা। ভরসা সেই নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী।