কলকাতার কঠিন বাস্তবকে পর্দায় এঁকেছিলেন মৃণাল সেন, সৃষ্টি হয়েছিল কলকাতা ট্রিলজি

First Published 14, May 2020, 10:18 AM

সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে শুরু। বাংলায় সমান্তরাল ছবি যে এক নতুন দিক খুলে দিয়েছিল, সেই পথেই হেঁটে ছিলেন ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেন। এই ত্রয়ীর প্রতিটা পদক্ষেপে সৃষ্টি ছবি যেন তৎকালিন সমাজের এক জ্বলন্ত-জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মধ্যবৃত্তের সমসার থেকে শুরু করে ৭১-এর সংগ্রাম, দেশ ভাগ থেকে শুরু করে দারিদ্রের যন্ত্রণা, সবই যেন স্থান পেয়েছিল এই পরিচালকের সৃষ্টি করা ফ্রেমে। তৈরি হয়েছিল তিন কালজয়ী ছবি। 

<p>১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম ছবি মুক্তি পেলেও এই ছবি ছিল না তাঁর প্রথম ছবি। দেশ স্বাধীনের আগে তৈরি করে ফেলেছিলেন পরিচালক তাঁর প্রথম ছবি।&nbsp;</p>

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম ছবি মুক্তি পেলেও এই ছবি ছিল না তাঁর প্রথম ছবি। দেশ স্বাধীনের আগে তৈরি করে ফেলেছিলেন পরিচালক তাঁর প্রথম ছবি। 

<p>সেই ছবির প্রতিটা ভাঁজে ছিল প্রতিবাদের আগুন। ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের গল্প। মুহূর্তে সেই ছবিকে ব্যান করে দেওয়া হয়েছিল। তবুও পথ চলা থামেনি প্রতিবাদী পরিচালকের।&nbsp;</p>

সেই ছবির প্রতিটা ভাঁজে ছিল প্রতিবাদের আগুন। ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের গল্প। মুহূর্তে সেই ছবিকে ব্যান করে দেওয়া হয়েছিল। তবুও পথ চলা থামেনি প্রতিবাদী পরিচালকের। 

<p>ছবির প্রতিটা ফ্রেম যখন কঠোর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হত, তখনই মৃণাল সেন মনে করতেন তাঁর সৃষ্টি সার্থক।&nbsp;</p>

ছবির প্রতিটা ফ্রেম যখন কঠোর বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হত, তখনই মৃণাল সেন মনে করতেন তাঁর সৃষ্টি সার্থক। 

<p>১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মৃণাল সেনের। মার্কেজ মৃণাল সেনকে একটি লেখা দিয়ে ছবি তৈরি করতে বলেন। সেই প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন পরিচালক।&nbsp;</p>

১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মৃণাল সেনের। মার্কেজ মৃণাল সেনকে একটি লেখা দিয়ে ছবি তৈরি করতে বলেন। সেই প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন পরিচালক। 

<p>জানিয়েছিলেন, এই গল্পের প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তবতার ছবি আঁকতে পারবেন না, তাই তাঁর পক্ষে সেই ছবি করা সম্ভব নয়।&nbsp;</p>

জানিয়েছিলেন, এই গল্পের প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তবতার ছবি আঁকতে পারবেন না, তাই তাঁর পক্ষে সেই ছবি করা সম্ভব নয়। 

<p>ততদিনে তৈরি হয়ে গিয়েছে পরিচালকের কলকাতা ট্রিলজি। তৎকালিন কলকাতার কঠিন বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিল ইন্টারভিউ (১৯৭১), কলকাতা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩)।&nbsp;</p>

ততদিনে তৈরি হয়ে গিয়েছে পরিচালকের কলকাতা ট্রিলজি। তৎকালিন কলকাতার কঠিন বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিল ইন্টারভিউ (১৯৭১), কলকাতা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩)। 

<p>১৯৬০ থেকে ৭০, প্রতিটি জেলায় তখন বিদ্রোহের আগুন। দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়িতে সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের আগুন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিল &nbsp;অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাংশ, কেরল, পূর্ব ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতায়।</p>

১৯৬০ থেকে ৭০, প্রতিটি জেলায় তখন বিদ্রোহের আগুন। দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়িতে সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের আগুন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছিল  অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাংশ, কেরল, পূর্ব ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতায়।

<p>মধ্যবিত্তের সংসারের ছবিটা তখন যায় বদলে, অভাব, নেই উপার্জন, খাবারের সমস্যা, পথে ঘাটে দাঙ্গা, সবই জায়গা করে নিয়েছিল মৃণাল সেনের এই তিন ছবিতে।&nbsp;</p>

মধ্যবিত্তের সংসারের ছবিটা তখন যায় বদলে, অভাব, নেই উপার্জন, খাবারের সমস্যা, পথে ঘাটে দাঙ্গা, সবই জায়গা করে নিয়েছিল মৃণাল সেনের এই তিন ছবিতে। 

<p>ইন্টারভিউ ছবিটিতে পথের পাঁচালী-র সর্বজয়া, অপু ও দুর্গাকে আবারও পেল দর্শক, রঞ্জিত, তাঁর মা ও বোন। যদিও মৃণালের কথায়, কলোনিয়াল লিগ্যাসি থেকেই গিয়েছে, এবং সেটা কেবল পোশাকের স্তরে নয়, সর্বস্তরে কাজ করেছে।&nbsp;</p>

ইন্টারভিউ ছবিটিতে পথের পাঁচালী-র সর্বজয়া, অপু ও দুর্গাকে আবারও পেল দর্শক, রঞ্জিত, তাঁর মা ও বোন। যদিও মৃণালের কথায়, কলোনিয়াল লিগ্যাসি থেকেই গিয়েছে, এবং সেটা কেবল পোশাকের স্তরে নয়, সর্বস্তরে কাজ করেছে। 

loader